নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। কিছুদিন আগে মাদ্রাজ হাই কোর্ট করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য কমিশনকে দায়ী করেছিল। তার বিরোধিতা করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেখানেও ধাক্কা খেল তারা। এই মন্তব্য যাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম না দেখানো হয়, নির্বাচন কমিশনের সেই আবেদনও খারিজ করে দিল আদালত। কমিশনের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল সংবাদমাধ্যমকে খবর প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের তরফে এদিন বলা হয়, আর্টিকেল ১৯-এ শুধু জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকেও কাছে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমেক কণ্টরোধ করা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে পশ্চাদপসরণ হবে। সংবাদমাধ্যমকে আদালতের কার্যক্রমের রিপোর্ট করা থেকে বিরত রাখতে কমিশন যে দাবি তুলেছে তার এদিন এভাবেই জবাব দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। এর পাশাপাশি দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন হাই কোর্টগুলি যেভাবে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তারও এদিন ভূয়সী প্রশংসা করে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করে মাদ্রাজ হাই কোর্ট। আদালত বলে, “করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বৃদ্ধির জন্য দায়ী একমাত্র নির্বাচন কমিশনই। কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়া উচিত”। মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভোটার প্রচার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করে বলে, “ভোট প্রচার যখন চলছিল, তখন আপনারা কি অন্য গ্রহে ছিলেন! আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কোভিড প্রোটোকল নিশ্চিত করতে পারেনি কমিশন।” আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের গাফিলতির জন্যই দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। নির্বাচন কমিশনকে এই বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেন মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাদ্রাজ হাই কোর্টের এই বক্তব্যের পর মাদ্রাজ হাই কোর্টের কাছেই কমিশনের তরফে আবেদন করে জানানো হয় , সংবাদমাধ্যম যেন আদালতের শুনানির সময় বিচারপতির মৌখিক পর্যবেক্ষণ দেখে মন্তব্য না করে। লিখিত রিপোর্টের রেকর্ডের উপর ভিত্তি করেই খবর করা উচিত। এই প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, “স্বাধীন সাংবিধানিক এজেন্সি হিসেবে দেশে নির্বাচন করানোর গুরু দায়িত্ব থাকে কমিশেনর উপর রয়েছে । মিডিয়ার খবর সেই কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।” নিজেদের কাঁধ থেকে কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলতে তাদের কমিশনের আরও দাবি, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা নিজেদের কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু মাদ্রাজ হাই কোর্ট কমিশনের কমিশনের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেয়নি। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আজ সেখানেও ধাক্কা খায় তারা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.