জেনেভা: বালোচিস্তানে চলা নৃশংসতা না থামালে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্যের ক্ষেত্রে হাত উঠিয়ে নেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এমনটাই জানালেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাইজার্ড জারনেকি। তিনি জানান, ‘মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আমি বলেছি, যদি আমাদের কোনও পার্টনার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ’।

তিনি আরও বলেন, এখন আর কথা নয়, কাজে করে দেখাতে হবে। জারনেকি জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে আর্থিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। বালোচিস্তান নিয়ে পাকিস্তান যদি তাদের পলিসি পরিবর্তন না করে, তাহলে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাক সরকারের সঙ্গে সম্পর্কেও পরিবর্তন আসবে বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, ‘ইসলামাবাদের দ্বিমুখী নীতি রয়েছে। আমাদের সঙ্গে একরকম ব্যবহার করা হয়। আর বালোচিস্তানের প্রতি ব্যবহারে তাদের হিংস্র চেহারাটা বেরিয়ে আসে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ জন সদস্য দেশেরই এবিষয়ে একমত হওয়া উচিৎ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাক সরকার সম্পর্কে আরও একটা সত্যি উঠে আসে তাঁর কথা। জারনেকি বলেন, পাক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে পাক সেনা। আর এই অবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন তিনি। সেইসঙ্গে বালোচিস্তানের আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে আমেরিকায়। মার্কিন সেনেটে এই সংক্রান্ত বিলও পেশ করা হয়েছে। পাকিস্তান স্টেট স্পন্সর অফ টেররিজম ডেজিগনেশন অ্যাক্ট (এইচআর ৬০৬৯) মার্কিন কংগ্রেসে প্রবর্তন করেছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি টেড পো। পো তাঁর বিবৃতিতে ইসলামাবাদকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার শত্রুদের বিভিন্নভাবে মদত দিয়ে চলেছে। ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানে আশ্রয় দেওয়া থেকে হাক্কানি চক্রে সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সব বিষয়ই উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই বিল পেশের ৯০ দিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে একটি রিপোর্ট দিতে হবে। রিপোর্টে ওবামাকে উল্লেখ করতে হবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মনোভাব নিয়ে। এই রিপোর্ট পেশের তিরিশ দিন পর ফের মার্কিন কংগ্রেসের সেক্রেটারিকে আরেকটি রিপোর্ট পেশ করতে হবে। সেখানে বলতে হবে কেন পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। আর যদি না করা হয়, তাহলে বলতে হবে, কেন আইনগত ভাবে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা গেল না।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ