লন্ডন: ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে ২০০৫ শেষবার উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের শিরোপা উঠেছিল অল-রাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের মাথায়। বিগত তিনটি বছরে উইজডেন বর্ষসেরা খেতাব জয়ের দৌড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বিরাট কোহলির। ভারত অধিনায়কের সেই ধারাবাহিকতায় থাবা বসালেন ব্রিটিশ অল-রাউন্ডার বেন স্টোকস। ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে ২০২০ উইজডেন বর্ষসেরা খেতাব জিতলেন বিশ্বজয়ের নায়ক। বিগত ১৫ বছরে তিনিই প্রথম ইংরেজ ক্রিকেটার, যিনি এই খেতাব জিতলেন।

উইজডেন বর্ষসেরা মনোনিত হওয়ার জন্য স্টোকসই যে যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ২০১৯ ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের পিছনে স্টোকসের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ফাইনালে তাঁর মহার্ঘ্য ইনিংসেই প্রথমবারের জন্য থ্রি-লায়ন্সদের বিশ্বজয় নিশ্চিত হয়। এখানেই শেষ নয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুধে অ্যাশেজ যুদ্ধেও স্টোকস ছিলেন সমান সাবলীল। হেডিংলে’তে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংসটি আসে অল-রাউন্ডারের ব্যাট থেকে। ১১ নম্বর জ্যাক লিচকে নিয়ে তাঁর মহাকাব্যিক ইনিংসে ম্যাচ জেতে ইংল্যান্ড।

পুরস্কারস্বরূপ ইতিমধ্যেই আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান, পাশাপাশি বিবিসি ‘স্পোর্টস পার্সোনালিটি অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন ইংরেজ অল-রাউন্ডার। এবার ইংরেজ অল-রাউন্ডারের মুকুটে নয়া পালক। ঐতিহ্যের উইজডেন বর্ষসেরার মুকুট এবার তাঁর মাথায়। এই প্রসঙ্গে উইজডেন এডিটর জানান, ‘রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি, স্টোকস ইংল্যান্ডের এমন একজন ক্রিকেটার যে সবরকম পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে জানে। তাই এই অ্যালমনাক তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যেত।’

মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে উইজডেন বর্ষসেরা হয়েছেন এলিস পেরি। মহিলাদের অ্যাশেজ যুদ্ধে পেরিই ছিলেন সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ও সর্বাধিক উইকেট শিকারি। পাশাপাশি উইজডেন ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার তালিকায় পাঁচজনের মধ্যেও নাম তুলে নিয়েছেন তিনি। বাকি চারজন হলেন ইংরেজ পেসার জোফ্রা আর্চার, অজি ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্স ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্নাস ল্যাবুশেন ও এসেক্স অফ-স্পিনার সাইমন হার্মার।