সাউদাম্পটন: ২০০২ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ৩২৬ রান তাড়া করে হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এতদিন ওটাই ছিল সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির। কিন্তু আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিং এবং অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নির প্রবল ব্যাটিং বিক্রমে ভেঙে গেল ভারতীয় দলের সেই রেকর্ড। প্রথম দু’ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ালেও শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ৩২৯ রান তাড়া করে জিতল আয়ারল্যান্ড।

এক বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল আইরিশরা। একইসঙ্গে নাম লেখাল ইতিহাসের পাতায়। ১২৮ বলে বিধ্বংসী ১৪২ রানের ইনিংস খেললেন স্টার্লিং, ১১৩ রান এল বালবির্নির ব্যাট থেকে। সাউদাম্পটনে মঙ্গলবার টস জিতে আয়োজক দেশকে প্রথমে ব্যাটিং’য়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আইরিশ দলনায়ক। অধিনায়ক মর্গ্যানের শতরান এবং অল-রাউন্ডার ডেভিড উইলির অর্ধশতরানে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২৮ রান তোলে ইংল্যান্ড। ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৮৪ বলে ১০৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ইংরেজ অধিনায়ক। ৪২ বলে ৫১ রান আসে উইলির ব্যাট থেকে।

টম কারেন করেন মূল্যবান ৩৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৫০ রানের মাথায় গ্যারেথ ডিলানির উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে স্টার্লিং-বালবর্নি যোগ করেন ২১৪ রান। ইংরেজ বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়ে শতরান পূর্ণ করেন দুই ব্যাটসম্যানই। ৯টি চার ও ৬টি ছয়ে ১২৮ বলে ১৪২ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন স্টার্লিং। তবে দ্বিতীয় উইকেটের ওই পার্টনারশিপই জয়ের রাস্তা সাফ করে দেয় আইরিশদের। স্টার্লিং’য়ের পাশাপাশি চোখধাঁধানো শতরান আসে বালবির্নির ব্যাট থেকেও। ১২টি চারের সাহায্যে ১১২ বলে ১১৩ রান করেন আইরিশ অধিনায়ক। বালবির্নির শতরান পূর্ণ হওয়ার পরেই ক্রিজ ছাড়েন স্টার্লিং। দীর্ঘস্থায়ী হয়নি অধিনায়কের ইনিংসও।

তবে আয়ারল্যান্ডের জয় আটকায়নি। হ্যারি হেক্টরের ২৬ বলে অপরাজিত ২৯ রান এবং কেভিন ও’ব্রায়েনের অপরাজিত ১৫ বলে ২১ রান এক বল বাকি থাকতে উত্তেজক জয় এনে দেয় প্রতিবেশী দেশকে। উল্লেখ্য, ২০১১ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে একই রান তাড়া করে ইংরেজদের হারিয়েছিল আইরিশরা। পরাক্রমশালী ব্যাটিং’য়ে ম্যাচের সেরা স্টার্লিং। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও শেষ ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিক্ষা দিয়ে গেল আইরিশরা।

ম্যাচ সেরা স্টার্লিং জানান, ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগে প্রথম জয় পেয়ে ভীষণ ভালোলাগছে। বিশেষ করে দু’টো কঠিন ম্যাচের পর এই জয়টা প্রয়োজন ছিল। আমরা এর আগেও একাধিকবার ৩০০ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছি, এমনকি বিশ্বকাপেও। তাই নিজেদের প্রতি বিশ্বাস ছিল।’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও