বেঙ্গালুরু: বেজে উঠেছে বিশ্বকাপের আগমণী সুর। একে একে নক্ষত্র হারাচ্ছে আইপিএল। বেন স্টোকস, জোস বাটলার, জনি বেয়ারস্টো, ডেভিড ওয়ার্নারের পর এবার স্টিভ স্মিথ। বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিতে দেশে ফিরছেন অজি তারকা। মঙ্গলবার চিন্নাস্বামীতে বৃষ্টি-বিঘ্নিত বেঙ্গালুরু ম্যাচ খেলেই এবারের মত দাড়ি টানলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে লিগে। নির্বাসনের কারণে ২০১৮ আইপিএলে ছিলেন দলের বাইরে। সাফল্যের সঙ্গে চলতি মরশুম শেষ করে তাই বিদায়বেলায় আবেগঘন স্টিভ স্মিথ।

মঙ্গলবারই দেশে ফিরেছেন তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থ ওয়ার্নার। পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশে ফিরছেন স্মিথ। স্যান্ডপেপার গেট কান্ডের জের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এক বছর নির্বাসনের কারণে ওয়ার্নারের মতই ২০১৮ আইপিএলে স্মিথকে দলে রাখেনি রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজি। স্বভাবতই ২০১৯ মরশুমে সফল প্রত্যাবর্তনে মুখিয়ে ছিলেন এই অজি ক্রিকেটার।

ওয়ার্নারের মত সাড়া জাগিয়ে কামব্যাক করতে না পারলেও দ্বাদশ আইপিএলে স্মিথের পারফরম্যান্স একেবারে অসফল বলা যাবে না। চলতি আইপিএলে ১২ ম্যাচে ৩টি অর্ধশতরান সহ সর্বমোট ৩১৯ রান এসেছে স্মিথের ব্যাট থেকে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় শেষ ৫ ম্যাচে রাহানের থেকে হাত বদল করে নেতৃত্বের ব্যাটনটা গ্রহণ করেন স্মিথ। এরপর স্মিথের ক্যাপ্টেনসিতে ৫ ম্যাচের ৩টিতে জিতে প্লে-অফের লড়াইয়ে দারুণভাবে ফিরে আসে খারাপ শুরু করা রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজি।

আরসিবির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার চিন্নাস্বামীতে জয়ের অদূরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ভেস্তে না গেলে লিগ টেবিলে আরও সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারত রয়্যালস বাহিনী। সে যাইহোক শেষ ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়েই সন্তুষ্ট স্মিথ ভারত ছাড়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দিলেন অনুরাগীদের জন্য। লিখলেন, ‘গত ৭ সপ্তাহের জার্নির জন্য রাজস্থান রয়্যালসকে ধন্যবাদ। দুর্দান্ত একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ভালো মানুষের সান্নিধ্যে আমি আপ্লুত। আইপিএলে খেলা প্রত্যেকটা মিনিট আমি উপভোগ করেছি। সতীর্থদের দিল্লি ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা।’

মঙ্গলবার চিন্নাস্বামীতে টস জিতে কোহলিদের প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় রাজস্থান রয়্যালস। মুষলধারে বৃষ্টির পর সুপার সপার দিয়ে আউটফিল্ডের জল সরিয়ে শেষমেষ ৫ ওভারে ম্যাচ করানোর সিদ্ধান্ত নেন অফিসিয়ালরা। বরুণ অ্যারনের প্রথম ওভার থেকে ২৩ রান সংগ্রহ করেন কোহলি-ডিভিলিয়ার্স। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে চমক দেখান শ্রেয়স গোপাল। প্রথম তিন বলে ১২ রান খরচ করলেও ওভারের শেষ তিন বলে কোহলি, ডি’ভিলিয়ার্স ও স্টোওনিসের উইকেট তুলে নিয়ে চলতি আইপিএলের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি সেরে ফেলেন রয়্যালস স্পিনার।

কোহলি করেন ৭ বলে ২৫। ডি’ভিলিয়ার্স ফেরেন ৪ বলে ১০ রান করে। এরপর রাজস্থান বোলারদের দাপটে আর দু’অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি কোনও আরসিবি ব্যাটসম্যানই। নির্ধারিত ৫ ওভারে ৭ উইকেট খুঁইয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করে আরসিবি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩.২ ওভারে প্রথম উইকেটটি হারায় রাজস্থান। ১৩ বলে ২৮ রান করে চাহালের ডেলিভারিতে নেগির হাতে ধরা পড়েন স্যামসন। ঠিক তখনই ফের বৃষ্টি নামলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দু’দলের পয়েন্টের খাতাতেই একটি করে পয়েন্ট যোগ হয়।