শারজা: শেষ মূহূর্তের ভুলে বাহরিনের কাছে হার। প্রথমবার এশিয়ান কাপে নক-আউটের যোগ্যতা অর্জনের অদূরেই থমকে যেতে হল ভারতীয় দলকে। আর এশিয়ান কাপে ছিটকে যাওয়ার পরই সুনীলদের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন।

ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ এখন ফুটবলের জন্য গলা ফাটাচ্ছে। বাহরিন ম্যাচের আগে সুনীলদের চার্জড আপ করেছিলেন এমন মন্ত্রেই। দরকার ছিল নিদেনপক্ষে একটি ড্র। প্রথমবার এশিয়ান কাপের নক-আউটে জায়গা করে নিতে এই সমীকরণই যথেষ্ট ছিল সুনীলদের জন্য। সেই লক্ষ্যে সোমবার সারা ম্যাচে দুর্ধর্ষ ফুটবল উপহার দিল কনস্ট্যানটাইনের রক্ষণভাগ।

কিন্তু দিনের শেষে ঝিঙ্গান-কোটালদের অধিনায়ক হঠাৎই বনে গেলেন খলনায়ক। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মারাত্মক ভুলটা করে বসলেন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা প্রণয় হালদার। বক্সে তাঁর অবৈধ ট্যাকেলেই মোক্ষম সময় পেনাল্টি পেল বাহরিন। স্পটকিক থেকে গোল করে ইতিহাস লেখার অদূরেই সুনীলদের দাঁড় করিয়ে রাখলেন জামাল রশিদ।

আর ম্যাচ হারের পরই বছর ছাপ্পান্নর কনস্ট্যানটাইন ভারতীয় দলে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সুনীলদের দায়িত্ব ছাড়ার কালে ব্রিটিশ কোচ জানান, চার বছর আমি দায়িত্বে ছিলাম। প্রথম দিন থেকে আমার একটাই লক্ষ্য ছিল, ভারতকে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে তোলা। আমি সেটা করতে পেরেছি।’ শেষ মূহূর্তে অপ্রত্যাশিত গোল হজম। তবে এশিয়ান কাপের নক-আউটে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েও স্টিফেন ফুটবলারদের বাহবাই দিচ্ছেন।

সুনীলদের সদ্য প্রাক্তন কোচের কথায়, ছেলেদের খেলায় আমি গর্বিত। ওরা যে ফুটবল টুর্নামেন্টে উপহার দিয়েছে তাতে আমি ভীষণ খুশি।’ পাশাপাশি তাঁকে পূর্ণ সহযোগীতা করার জন্য অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানান কনস্ট্যানটাইন। ব্রিটিশ কোচের আরও সংযোজন, ‘আমার মনে হয় আমার দায়িত্ব শেষ হয়েছে। যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করতে পেরেছি। তাই সরে যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।’

২০০২-০৫ প্রথম ইনিংসের পর ২০১৫ ভারতীয় ফুটবলে শুরু হয় স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের দ্বিতীয় ইনিংস। দায়িত্বগ্রহণের সময় ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৭৩ থেকে বর্তমানে সুনীলদের ৯৭ তম স্থানে উত্থানের পিছনে ব্রিটিশ কোচের অবদান অনস্বীকার্য। কনস্ট্যানটাইনের হাত ধরেই ২০১৮ ফিফা র‍্যাংকিংয়ে প্রথম একশোয় ঢুকে পড়ে মেন ইন ব্লু। এরপরই স্বপ্ন দেখা শুরু হয় এশিয়া সেরার টুর্নামেন্ট নিয়ে।

সংকল্প নিয়ে আট বছর পর এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ভারতকে তোলার পর টুর্নামেন্টেও দারুণভাবে অভিযান শুরু করে কনস্ট্যানটাইন ব্রিগেড। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেন সুনীলরা। এরপর আরব আমিরশাহির কাছে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ০-২ গোলে হারলেও ভারতীয় দলের খেলা মন জয় করে নেয় অনুরাগীদের। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত সুনীলদের। কিন্তু ১৬ ধাপ পিছিয়ে থাকে বাহরিনের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ছিটকে যায় সুনীলরা। আর এরপরেই অবসান ভারতীয় ফুটবলে কনস্ট্যানটাইন জমানার।