লন্ডন: বছরের শুরুতে গ্রীসের এক বিস্ময় বালকের উত্থান দেখেছিল রড লেভার এরিনা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রি-কোয়ার্টারে ফেডেরারকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন স্টেফানোস সিৎসিপাস। শনিবার লন্ডনের ও-টু এরিনায় ফিরে এল দশ মাস আগের স্মৃতি। এবার এটিপি ফাইনালসের শেষ চারের লড়াইয়ে ছ’বারের চ্যাম্পিয়ন রজার ফেডেরারকে হারিয়ে নজির গড়লেন সিৎসিপাস। টুর্নামেন্টের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম গ্রীক প্লেয়ার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করে নজির গড়েছিলেন আগেই। শনিবার টুর্নামেন্টের অভিষেকেই ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়লেন ২১ বছরের ‘বিস্ময় বালক’।

গ্রীসের প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে বছর আটত্রিশের টেনিস মায়েস্ত্রো হার মানলেন স্ট্রেট সেটে। ৬-৩, ৬-৪ সেটে ২০টি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিককে মাটি ধরালেন স্টেফানোস। ও-টু এরিনার গ্যালারি এদিন সিংহভাগ ফেডেরারের দিকে ঝুঁকে থাকলেও তুলনায় উৎকর্ষ টেনিস উপহার দিলেন সিৎসিপাস। ব্রেক পয়েন্ট সেভ করে শুরুতেই ফেডেরারের সার্ভিস গেম এদিন নিজের নামে করে নেন বিশ্বের ছয় নম্বর। প্রথম সেটে র‍্যাংকিংয়ে তিন নম্বর ফেডেরারের কাছে ছ’টি ব্রেক পয়েন্ট জেতার সুযোগ থাকলেও তার মধ্যে একটিও ঝুলিতে ভরতে ব্যর্থ হন তিনি।

উল্টোদিকে নার্ভ শিথিল রেখে বাজিমাৎ করে যান সিৎসিপাস। প্রথম সেটে ৫-৩ এগিয়ে থাকা অবস্থায় জোড়া ব্রেক পয়েন্টের মুখোমুখি হতে হলেও ১৩ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়ে নবম গেম নিজের নামে করে নেন তিনি। পাশাপাশি প্রথম সেট ঝুলিতে ভরেন সিৎসিপাস। ৩-৬ প্রথম সেট হারের পর দ্বিতীয় সেটে ভাবা গিয়েছিল ম্যাচে ফিরবেন ফেডেক্স। কিন্তু সকলের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দ্বিতীয় সেটেও বাজি মেরে যান সুইস মায়েস্ত্রোর গ্রীক প্রতিদ্বন্দ্বী। দ্বিতীয় সেটে এসে দশমবারের প্রচেষ্টায় প্রথম ব্রেক পয়েন্ট আদায় করলেও ফেডেরারের পক্ষে তা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

৫-৪ এগিয়ে থেকে ম্যাচের জন্য সার্ভ করাকালীন ১৫-৪০ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও জোড়া ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে ম্যাচ মুঠোয় ভরে নেন সিৎসিপাস। সবমলিয়ে সারা ম্যাচে ১২টি’র মধ্যে ১১টি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে মরশুম শেষের টুর্নামেন্ট ফাইনালে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। ফাইনালে ডমিনিক থিয়েমের মুখোমুখি হবেন তিনি। অন্য সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আলেকজান্ডার জেরেভকে ৭-৫, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যান থিয়েম।

এদিন ম্যাচ জিতে সিৎসিপাস জানান, ‘এটিপি ফাইনালস, উইম্বলডন এবং অন্যান্য গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনালে ফেডেরারের জয় দেখে বড় হয়েছি। একসময় তাঁর বিরুদ্ধে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেইসব স্বপ্নপূরণের দিন।’