শ্রীনগর: ১২ই জুন জম্মু কাশ্মীরের অনন্তনাগে যে নাশকতা চালানো হয়েছিল, তাতে ব্যবহার করা হয়েছিল স্টিলের তৈরি বুলেট৷ জঙ্গিরা এই স্টিল বুলেট ব্যবহার করেছিল বলে তদন্ত সূত্রে খবর৷ এর জেরে জওয়ানদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আঘাতের মাত্রা অনেক বেশি ছিল৷ বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভেদ করে এই স্টিল বুলেট ঢুকে গিয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন৷

তদন্তে সূত্রে খবর এই স্টিল বুলেট তৈরি হচ্ছে চিনে৷ বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটেও কাজ না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে৷ অনন্তনাগে হামলার পর তদন্তকারীদের হাতে আসে একটি একে ৪৭ রাইফেল৷ এই রাইফেলেই ব্যবহার করা হচ্ছে স্টিল বুলেট৷ যা হামলা স্থলে পড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা নয়, সাফ জানাল ভারত

তদন্তে প্রকাশ পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ স্টিল বুলেটের ব্যবহার শুরু করেছে৷ মূলত জম্মু কাশ্মীরে সেনার ওপর হামলা চালাতেই এই বিশেষ বুলেটের ব্যবহার করা হচ্ছে৷ পুলওয়ামা ও ত্রালে এই বুলেটের ব্যবহারের পাশাপাশি, জম্মু কাশ্মীর জুড়ে যত হামলা হচ্ছে, ইদানিং এই বুলেটের ব্যবহারই বাড়ছে৷

একে ৪৭ রাইফেলের ম্যাগাজিনে একসঙ্গে ৩-৪টি স্টিল বুলেট রাখা যায় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা৷ উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৭শে ডিসেম্বর জইশ ই মহম্মদ সেনার ওপর হামলা চালাতে প্রথম এই ধরণের বুলেটের ব্যবহার করে৷ তখন বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া না হলেও, ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷

বিশ্ব জুড়ে স্টিল বুলেটের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ কিন্তু জঙ্গিদের হাতে এই ধরণের বুলেট কি ভাবে পৌঁছল, তা নিয়ে চিন্তায় তদন্তকারীরা৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন জইশের হাতে এই স্টিল বুলেট প্রথম তুলে দেয় কাশ্মীরে জইশের অন্যতম মাথা নুর মহম্মদ তান্ত্রে ওরফে পীর বাবা৷ এই তান্ত্রেকে সেনা নিকেশ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে৷ তবে তারপরেও কী করে জঙ্গিরা স্টিল বুলেটের হদিশ পাচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা৷

আরও পড়ুন : উদ্ধার হল ভেঙে পড়া বায়ুসেনা বিমানের আরও ৬ যাত্রীর দেহাবশেষ

এদিকে, বুধবারই জম্মু কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলা থেকে পাঁচ হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিকে পাকরাও করে সেনা৷ বুধবার এই তথ্য জানায় জম্মু কাশ্মীর পুলিশ৷ এরা প্রত্যেকেই উপত্যকায় সক্রিয় ছিল৷ বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল এরা বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷

ধৃতদের নাম প্রকাশ করে পুলিশ৷ আকিব নাজির পাঠার, আমির মজিদ ওয়ানি, সমীর আহমেদ ভাট, ফয়জল আহাঙ্গার ও রয়েস আহমেদ গানাইয়ের নাম এক বিবৃতি প্রকাশ করে কাশ্মীর পুলিশ৷ জেরায় ধৃতরা হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে খবর৷ জেরায় জানা যায়, জম্মু কাশ্মীরে সেনার ওপর আইইডি হামলা চালানোর ছক করেছিল তারা৷