নয়াদিল্লিঃ দেশ জুড়ে ক্রমেই বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে যা সব থেকে বেশী চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিটা রাজ্যর মানুষের কাছে। সব থেকে বেশী আক্রান্তের হার এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্র এবং কেরলে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যাতে ঘরে থাকে একান্ত প্রয়োজন না হলে যাতে না বের হয় তা নিয়ে আবারও আর্জি জানালেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

জানালেন, দেশভক্তি দেখাতে চাইলে এই মুহূর্তে ঘরের ভেতরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। কারণ ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণের হার। করোনা ভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচী চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন রাজ্যের সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহন করেছে তারা। পাশপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও শুরু করা হয়েছে একাধিক কর্মসূচীও ।

কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, যখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন লক ডাউনের বিষয়ে তখন এও বলেছিলেন যাতে কেউ বাইরে না আসে। সেটাই এই লক ডাউনের মন্ত্র হওয়া উচিত। এও জানিয়েছেন যে, এই সাধারণ কথাটা যদি মানুষ বুঝতে না পারে তাহলে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াই যেটা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়বে। যা এই দেশের পক্ষে কখনই মঙ্গলজনক নয়।

লক ডাউনের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের ঠিকানাতে ফেরার ছবি দেখে অবাক হয়েছিল গোটা দেশ। সতর্কতা না মেনে দিল্লির আনন্দ বিহারে অত সংখ্যক শ্রমিককে দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন অনেকেই। কারণ ওই ভিড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরার বিষয়টি সকলের মাথাতে প্রথম এসেছিল। কিন্তু কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, সকল শ্রমিকদের খাওয়ার এবং থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া এও জানিয়েছিলেন, দিল্লি সরকার প্রতিদিন ৪ লক্ষ মানুষের দুপুরের এবং রাতের খাবার পরিবেশন করছে।

মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করেছিলেন। জমায়েত হয়েছিলেন বাস স্ট্যান্ডে। যা দেখে তিনি জানিয়েছিলেন যদি ওই ভিড়ের মধ্যে কেউ সংক্রমিত হয়ে থাকেন তাহলে সেখান থেকে এই মারণ ভাইরাস বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে পরার প্রভূত সম্ভবনা রয়েছে। সেজন্যে সবাইকে বারবার সোশ্যাল ডিসটেন্সের দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। অন্যদিকে তিনি সকল সংস্থার কাছে আবেদন করেছেন, যাতে সব কর্মীদের পুর মাসের বেতন দেওয়া হয়।

এছাড়া ভাড়াটিয়াদের থেকে জোর করে ভাড়া আদায় করা যাতে না হয় তা নিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গরীব মানুষদের ভাড়া রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এও জানিয়েছেন ভাড়াটিয়াদের উপরে কোনরকম জোর করা হলে সেই সকল বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে যাতে কোনরকম রাজনৈতিক তরজা না শুরু হয় তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে সকলের একটা লক্ষ হওয়া উচিত আর তা হোল এই ভাইরাস কে হারান। যাতে আর সংক্রমণ না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা বলেও জানিয়েছেন তিনি।