নয়াদিল্লি: মারণ ভাইরাস COVID-19’র বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগামি দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? উপায় বাতলে বৃহস্পতির সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামি রবিবার ২২ জুন ঘোষিত হল ‘জনতা কার্ফু’। অর্থাৎ জনতার দ্বারা, জনতার জন্য নিজেদের উপর জারি করা কার্ফু। ডাক্তার, চিকিৎসাকর্মী, পরিবহন কর্মীর মত যেসব মানুষ নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করে মানুষের জন্য কঠিন সময় কাজ করছেন, তাঁদের ধন্যবাদও জানানো হবে সেদিন।

ঘোষণার অনতিপরেই দেশহিতের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কুর্নিশ জানালেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। করোনা উদ্বেগের মধ্যে দেশবাসীর প্রতি কোহলির বিরাট বার্তা এসেছিল আগেই। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সূত্র ধরে আর একবার দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার করা স্মরণ করিয়ে দিলেন কোহলি।

অনুরাগীদের প্রতি বার্তা দিয়ে কোহলি এদিন ফের লিখলেন, ‘COVID19-র প্রকোপ থেকে বাঁচতে সদা সতর্ক, সুরক্ষিত থাকুন। পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সতর্কতা অবলম্বনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বার্তা দিলেন সেটা মেনে চলুন।’ এখানেই শেষ দিনের দ্বিতীয় টুইটে নরেন্দ্র মোদীর সুরে সুর মিলিয়ে বিরাট দেশের চিকিৎসক, কঠিন সময়ে যারা সব ভুলে বিপন্ন মানুষদের সেবায় নিরন্তর নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন তাদের জন্য আলাদা বাক্য খরচ করেছেন।

‘করোনা ভাইরাসের উদ্বেগের মধ্যে ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা চিকিতসা কিংবা সেবার কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। নিজে সুস্থ থাকুন ও অপরকে সুস্থ রাখার বার্তা দিয়ে সেইসকল মানুষদের সম্মান জানান।’ শুধু কোহলিই নন, জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে দেশের মানুষকে তা সফল করার ডাক দিয়েছেন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

প্রধানমন্ত্রীকে একশো শতাংশ সমর্থন জানিয়ে দেশের মানুষের প্রতি তাঁর আরোপিত কর্মসূচী অক্ষরে অক্ষরে পালনের ডাক দিয়েছেন টার্বুনেটর হরভজন সিংও। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আর পাঁচজন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়ে হরভজন আশাবাদী যে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ডাকে নিশ্চিত সাড়া দেবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার করোনা উদ্বেগের মধ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদী, সেখানে আগামি ২২ মার্চ, রবিবার পালন করতে হবে জনতা কার্ফু পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘জনতা কার্ফু’ হল জনতার দ্বারা, জনতার জন্য নিজেদের উপর জারি করা কার্ফু। ওই দিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত কেউ বাড়ি থেকে বেরবেন না।’ এইভাবে সংযম অভ্যাস করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এটা হবে দেশহিতের জন্য একটা প্রতীক।

এছাড়া, ওইদিন বিকেল ৫ টায় সাইরেন বাজানো হবে। সেইসময় দেশের সব মানুষ জানালায়, দরজায় বা ব্যালকনিতে দাঁড়াবে। ডাক্তার, চিকিৎসাকর্মী, পরিবহন কর্মীর মত যেসব মানুষ নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হবে সেদিন।