ঢাকা: আট বছরের নাতি জায়ান চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায়৷ তাতে শোকাতুর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জঙ্গি হামলার কড়া কড়া নিন্দা করে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে বললেন৷ হাসিনা বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার এটাই আহ্বান থাকবে– এই ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে যেন সকলেই দূরে থাকে, এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে কেউ যেন জড়িত না হয়। সেটাই আমার কাম্য।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে বলবো দেশবাসীকে সতর্ক থেকে কোথাও যদি এরকম অস্বাভাবিক কিছু তারা পায়, তাহলে তারা সাথে সাথে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেন জানায়।’

বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা৷ ইসলামিক স্টেটের পরিকল্পনায় গুলশনের হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলায় কেঁপে গিয়েছিল দুনিয়া৷ তাতে একাধিক দেশের নাগরিককে খুন করা হয়৷ এর পরেও ইদের অনুষ্ঠানে হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ সন্ত্রাসবাদ কোনও ধর্মের সঙ্গে জড়িত নয় বলেই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশেও আমরা দেখি বোমা হামলা এবং সন্ত্রাসী হামলা। যা আমরা কঠোর হস্তে দমন করেছি।

গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে তিনশোর বেশি মানুষের মৃত্যু ও ৫০০ জনের বেশি জখম হয়েছেন৷ এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। যারা ছোট্ট শিশু, নিষ্পাপ– তারা কেন এভাবে জীবন দেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছুদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের একটি মসজিদে সরাসরি গুলি করে নারী, পুরুষ শিশুসহ অনেকগুলো মানুষকে হত্যা করা হলো। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সে সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট টিম সেখানে ছিল, খুব অল্পের জন্য তাঁরা বেঁচে গিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং কখনো জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না৷ ‘এরা আমাদের পবিত্র ধর্মটাকেই সমগ্র মানবজাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে দিচ্ছে।’ তিন বলেন, কেবল ইসলাম নয়, ‘সকল ধর্মেই শান্তির বাণী প্রচার করা হয়েছে। কিছু লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় মানুষের প্রতি যে আঘাত আনে, জীবন কেড়ে নেয়, এটা মানব জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কষ্টকর।’