গান্ধীনগর: নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে আয় করতে শুরু করল স্ট্যাচু অফ ইউনিটি। বিশ্বের সবথেকে বড় মূর্তি দেখতে উপচে পড়ল ভিড়।

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেছেন বিশ্বের সবথেকে বড় মূর্তি স্ট্যাচু অফ ইউনিটি। ২০১৩ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের এই মূর্তি গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মোদী।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই মূর্তি স্থাপন করা করা হয়েছে নর্মদা নদীর পারে। যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক হয়েছে সমগ্র দেশ জুড়ে। মূর্তি তৈরিতে যা খরচ হয়েছে সেই খরচে শিল্প, হাসপাতাল বা অন্যান্য অনেক কিছু করা যেত। কিন্তু তা না করে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মূর্তি নির্মাণের নিন্দা করেছিলেন অনেকে।

যদিও নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল গুজরাত সরকার। এই মূর্তি থেকে বিপুল আয় হবে বলে দাবি করা ওই রাজ্যের প্রশাসনের থেকে। শুধু তাই নয়, এই মূর্তি রাজ্যের পর্যটন শিল্পের মান আরও উন্নত করবে। যা থেকে ঘটবে কর্মসংস্থান। এমনই দাবি ছিল গুজরাত সরকারের।

এক পক্ষ কাল সময়ের মধ্যেই মিলল প্রমাণ। পর্যটকের ভিড় জিতিয়ে দিল গুজরাত সরকারকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই নিন্দুকদের কাছে অস্বস্তির। গত সপ্তাহের মঙ্গল থেকে শনি এই পাঁচ দিনে প্রায় ৭৫ হাজার পর্যটক এসেছেন স্ট্যাচু অফ ইউনিটি দেখতে। যাদের মধ্যে অনেকে ভিন রাজ্যের পর্যটকও রয়েছেন। স্ট্যাচু অফ ইউনিটি পরিচালন কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে এই তথ্য জানিয়েছে।

উৎসবের মরশুমে ভিড় হবে তা জানাই ছিল। কিন্তু পর্যটকদের ঢল ছাপিয়ে গিয়েছে যাবতীয় প্রত্যাশাকে। তথ্য অনুসারে কেবলমাত্র শনিবারেই ২৭ হাজার পর্যটক এসেছিলেন। পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই পড়শি রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিল বলে জানিয়েছেন সর্দার সরোবর নিগমের প্রধান ইঞ্জিনিয়র পিসি ভ্যাস। গাড়ির পার্কিং লট ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

আরও বড় বিষয় হচ্ছে শেষ তিন দিনে বিশ্বের বড় মূর্তি দেখতে এসে অনেক পর্যটক হতাশ হয়েছেন। সুবিশাল এই মূর্তির ভিতরেও রয়েছে নানাবিধ দর্শনীয় বিষয়। ১৮২ মিটার মূর্তির ১৫৩ মিটারের মাথায় রয়েছে একটি বিশেষ অব্জারভেশন ডেক। যা ওই পর্যটনস্থলের সবথেকে আকর্ষণীয় বিষয়।। যার টিকিট সংখ্যা সীমিত। বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবারে ওই টিকিট শেষ হয়ে যায় সকাল ৯টার মধ্যেই।