নয়াদিল্লি: ক্ষমতার রাশ ঘুরছে৷ তাতেই রংবদল হল উত্তর ২৪ পরগনার চার পুরসভার৷ অধিকাংশ কাউন্সিলর জোডাফুল ছেড়ে যোগ দিলেন পদ্মফুলে৷ হালিশহর, কাঁচড়াপাড়া, নৈহাটি ও বীজপুর পুরসভা বর্তমানে বিজেপির দখলে৷

মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে রমরমা৷ উপস্থিত ছিলেন বাংলার ৩ বিধায়ক ও ৬৩ কাউন্সিলর৷ এদের মধ্যে বেশিরভাগই তৃণমূলের কাউন্সিলর৷ দলত্যাগ করে তারা যোগ দেন বিজেপিতে৷ কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে তখন স্লোগান উঠল ‘জয় শ্রীরাম’৷

আরও পড়ুন: তৃণমূল দলটাকে শেষ করে দেব, চরম হুঁশিয়ারি অর্জুনের

গেরুয়া দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য মুকুল রায় এদিন বলেন, ‘‘কাঁচরাপাড়া পুরসভা ২৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৭ জন যোগ দিলেন বিজেপিতে। হালিশহর পুরসভার ২৩জন কাউন্সিলরের মধ্যে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান-সহ ১৭ জনই শিবির বদল করলেন। নৈহাটি পুরসভার ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯জন কাউন্সিলরই বিজেপি শিবিরে চলে এসেছেন। ফলে অঙ্কের নিয়মে তিনটি পুরসভাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি’’

অন্যদিকে, অর্জুন ক্যারিশ্মায় ভাটপাড়া পুরসভার রংও গেরুয়া৷ আগের আস্থাভোটে ১১ কাউন্সিলর সমর্থন করেছিলেন অর্জুন সিংকে৷ তবে সেবার পুরসভার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি৷ এদিন আরও ১২ তৃণমূল কাউন্সিলর যোগ দিলেন বিজেপিতে৷ ফলে ৩৫ আসনের ভাটপাড়া পুরসভায় ২৩ কাউন্সিলরই পদ্ম শিবিরের দখলে৷

বিজেপিতে যোগ দিয়ে আগাগোড়াই মুকুল রায় দাবি করেছিলেন বহু পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ও বিধায়করা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ ভোটের পরই তারা দলবদল করবেন৷ বহু পুরসভা বিজেপির দখলে যাবে৷ সেই কথা স্মরণ করিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে মুকুল বলেন, ‘‘বাংলায় যে পরিস্থিতি তাতে আগামী দিনে শিবির করতে হবে। তৃণমূল ছেড়ে সবাই বিজেপিতে আসবেন। যোগদান প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এর সঙ্গে আরও বহু নেতানেত্রী যোগদানের জন্য তৈরি রয়েছেন।’’

আরও পড়ুন: বেতন কমিশন: অভিরূপ সরকারকে ঘেরাও করবে বিজেপি

রং বদলের এই রাজনীতির সৌজন্যে অবশ্যই বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ বছর দশেক আগে রাজ্য রাজনীতিতে পালা বদলের সূচনা হয়৷ ২০১১-র পর মহাকরণের দখল যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে৷

তারপর থেকে একের পর এক পুরসভা ও বাম-কংগ্রেস বিধায়ক দলত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে৷ নেপথ্যের কারিগর হিসাবে বাহবা পেতেন জোড়াফুল শিবিরের তৎকালীন সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়৷ শিবির বদল হয়েছে তাঁর৷ কিন্তু মুকুলের হাত যশে খামতি পরেনি৷ আজ ফের দল বদলের রমরমা৷ রং শুধু হচ্ছে সবুজ থেকে গেরুয়া৷