স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে সভা করতে এসে দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভায় হামলা হলে, তার পর কি হতে পারে সেটা যেন ভেবে হামলা করা হয়।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামি ২রা ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বনগাঁর ঠাকুর নগরে জনসভা করবেন মতুয়া সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে।

সেই সভায় যোগদানকারীদের উপর হামলা হলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নৈহাটির সভায় হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নৈহাটির গৌরিপুর মোড়ে এক দলীয় সভায় বক্তব্য রাখেন দিলীপ ঘোষ৷ সেই সভায় এসে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। এই সভার মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কোনও সভা করতে চাইলে সেই সভার জন্য মাঠ দেওয়া হচ্ছে না। সেই জন্য বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় সভা করছেন।

আরও পড়ুন : মোদীর আমলে বেকারত্ব চরমে, বিজেপি বলছে Fake News

দিলীপবাবু এদিনের সভামঞ্চ থেকে ব্রিগেডে তৃণমূলের সভাকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তৃণমূল যে প্রচার করছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর কলকাতায় গতকাল হামলা হয়েছিল, সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখে আমাদের দলের কার্যকর্তারা নিজেদের মনের ক্ষোভ বহি:প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। এটা রোজ আমার সঙ্গে কোথাও না কোথাও হয়, এটা বাংলার একটা কালচার হয়ে গেছে৷ পার্থ বাবু দেখুন কেমন লাগে।’

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় আসা প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে আমরা বলেছি যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে এখানে নির্বাচন হয় এবং আগের থেকে যেন বাহিনী আসে। মানুষ যাতে বাইরে বেরিয়ে ভোট দিতে পারে তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ভোট আমরাই করাব, ভোট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন করাবে এবং রাজ্যে পরিবর্তন হবেই ত্রিপুরার মতো। লোকসভা ভোটে ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাংলার বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমস্ত ভিডিও এবং রিপোর্ট আমরা কমিশনে পাঠিয়েছি।’

আরও পড়ুন : প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ৪০ হাজার কোটি বিনিয়োগ করল মোদী সরকার

প্রধানমন্ত্রীর দুই তারিখের সভায় কোনও হামলার আশঙ্কা করছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘হামলা তো এখনই আমার উপর হতে পারে৷ এর আগে আমি এখানে এসেছিলাম আমার ওপর হামলা হয়েছে। হামলা হওয়াটা কোনও ব্যাপার না, কিন্তু হামলা হওয়ার পরে কি হতে পারে সেটা যেন ভেবে হামলা করা হয়। হামলার পর কি হবে তা মানুষ জানতে পারবেন খবরে কাগজেই।’

রাহুল সিনহার সভায় লাঠি নিয়ে যাওয়ার তথ্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘আমি আগে বলেছি সভায় লাঠি নিয়ে যাওয়ার কথা। সবাই লাঠি নিয়েই যাবে৷’ তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলী বুধবার বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, বিজেপি বাড়াবাড়ি করলে চামড়া গুটিয়ে নেওয়া হবে। এর উত্তরে তিনি জানান, ‘দেখা যাক কে কার চামড়া গোটায়।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ