তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: জেলার কৃষদের বিকল্প আয়ের সন্ধান দিতে জৈব কৃষি খামার ও পতিত জমিতে আম বাগান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সিমলাপাল ডেভেলপম্যান্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ও রাজ্য বীজ নিগমের উদ্যোগে সিমলাপাল ব্লক এলাকায় ১০০ একর জমিতে আমবাগান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷ একই সঙ্গে একহাজার একর জমিতে জৈব কৃষি খামার তৈরি করা হবে৷

রাজ্য বীজ নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিস বটব্যাল বলেন, ‘‘জেলা ও জেলার বাইরের সাধারণ মানুষকে দূষণমুক্ত টাটকা শাক-সবজি ও ফসল তুলে দিতে কৃষিতে জৈব সার ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে৷’’ সিমলাপাল ব্লক এলাকার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জেলার অন্যান্য ব্লকেও এই ধরণের জৈব কৃষি খামার গড়ে তোলা হবে৷ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সিমলাপাল ব্লকের মণ্ডলকুলী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জৈব কৃষি খামার ও আমবাগান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷ আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই আম গাছ থেকে ফলন পাওয়া যাবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন৷

রাজ্য বীজ নিগম সূত্রে খবর, বাঁকুড়া জেলা বেশ কিছু ব্লকে চাষিদের জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ আগামী দিনে বাকি ব্লক গুলির কৃষকদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে৷ প্রাথমিকভাবে সিমলাপাল ব্লক এলাকার উঁচু জমি গুলিকে জৈব কৃষি খামার তৈরির জন্য বাছা হয়েছে৷ কারণ এই সব উঁচু জমিতে অতি বৃষ্টিতে জল দাঁড়াবে না৷ সহজেই তা গড়িয়ে চলে যাবে৷

সিমলাপাল ব্লক এলাকায় এই দুই প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা সিমলাপাল ডেভেলপম্যান্ট সোসাইটির সম্পাদক অনুপ পা বলেন, ‘‘সিমলাপাল ব্লক এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পতিত অকৃষি জমি রয়েছে৷ রাজ্য সরকারের বিশেষ সহযোগিতায় সেই সব জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে৷ সেকারণেই এখানে জৈব সার প্রকল্প ও আম বাগান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷’’ ফলে সরাসরি এই এলাকায় অসংখ্য চাষি বিকল্প চাষের সন্ধান পেয়ে আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন৷’’

এতদিন সিমলাপাল ব্লক এলাকায় ধান এবং আলু ছাড়া সেভাবে অন্য কোন চাষ হতো না৷ কিন্তু রাজ্য সরকারের এই বিকল্প চাষে উদ্যোগে এখানকার অসংখ্য চাষি উপকৃত হবেন৷ এখানকার চাষি দীপক সিংহমহাপাত্র, অনাদি পাইনরা বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় ধান, আলুর বাইরে অন্য কোন ধরণের চাষের সুযোগ ছিল না৷ কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নিজেদের তৈরি জৈব সার ব্যবহার করে নানান বাগিচা চাষের সুযোগ বাড়ছে৷’’ এ বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান৷