নয়াদিল্লি: পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম-বৃদ্ধিতে বিপাকে আমজনতা। কয়েক মাস ধরেই আকাশছোঁয়া পেঁয়াজের দাম। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে রোজকার মেনুতে একেবারে শেষের দিকেই ঠাঁই হচ্ছে পেঁয়াজের। গরিব মানুষ এখন খু বেশি একটা পেঁয়াজ কিনছেন না। এবার টন-টন পেঁয়াজ গুদামেই পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম-বৃদ্ধি রুখতে তৎপরতা নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

মিশর, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রের আমদানি করা সেই পেঁয়াজ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না রাজ্যগুলি। রাজ্যগুলিকে ৫৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে কেন্দ্র। রাজ্যগুলির সুবিধার্থেই পেঁয়াজের পরিবহণ খরচও নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু তবুও পেঁয়াজ কিনতে আগ্রহ নেই রাজ্যগুলির। আর তাই আমদানি করা টন-টন পেঁয়াজ এবার গুদামেই পচনের আশঙ্কা খোদ দফতরের মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের।

গত কয়েকমাসে মাত্রা ছাড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই হঠাৎ দাম-বৃদ্ধি শুরু হয় পেঁয়াজের। ১৮-২০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজের দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করে। কয়েক দিনেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলে পেঁয়াজের দাম। ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশের একাধিক রাজ্যে ১২০-১৭০ টাকা কেজি দরে কয়েক বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কলকাতার বাজারেও পেঁয়াজ টানা বেশ কিছুদিন ১২০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দেশজুড়ে পেঁয়াজের লাগামছাড়া দামবৃদ্ধিতে ভিনদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আমদানির পর দেখা দিয়েছে অন্য বিপত্তি। রাজ্যগুলিকে পরিবহণ খরচ ছাড় দিয়ে ৫৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই পেঁয়াজও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না রাজ্যগুলি। আর তাই গুদামেই পচে যেতে পারে ভিনদেশ থেকে আনা টন-টন পেঁয়াজ।

বর্তমানে বেশ খানিকটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। কলকাতার বাজারগুলিতে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। একইভাবে দেশের অন্যত্রও ৫০ টাকা কেজি দরে বা তারও কম দামে পেঁয়াজের বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার তাই কেন্দ্রের আমদানি করা পেঁয়াজে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না রাজ্যগুলি। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮,৫০০ টন পেঁয়াজ ভারতে এসে পৌঁছেছে। কয়েকটি রাজ্য ২ হাজার টনের কিছু বেশি পেঁয়াজ কিনেছে। বাকি পেঁয়াজ এখনও গুদামেই পড়ে রয়েছে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV