স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: পূর্ব ঘোষণা মত বাঁকুড়ার কোতুলপুর ব্লক এলাকায় সরকারি ন্যায্য মূল্যে আলু কেনার কাজ শুরু হল। প্রত্যেক কৃষক সাড়ে পাঁচশো টাকা কুইন্টাল দরে সর্বাধিক ২৫ কুইন্টাল আলু স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজগুলির মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। দেরিতে হলেও প্রশাসনিক এই উদ্যোগে খুশি কোতুলপুরের আপামর আলু চাষী।

জেলার অন্যতম ‘আলু ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত কোতুলপুর। এখানে ছোটো, বড়, মাঝারি প্রত্যেক কৃষকই কম বেশী আলু চাষ করেন। এবছর মাঠ থেকে আলু তোলার সময়ে অকালবৃষ্টির কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই অবস্থায় ধার দেনা করে, গয়না বন্ধক দিয়ে আলু চাষ করে খরচের টাকাটাই উঠবে কিনা ভেবে পাচ্ছিলেন না সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। সেই পরিস্থিতিতে কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে খুশি এলাকার কৃষকরা।

কোতুলপুরের জয়েন্ট বিডিও কুন্তল চ্যাটার্জ্জী বলেন, শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলু কেনা শুরু হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে আলু বিক্রির আগে কৃষকদের নিজের নিজের এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে একটি আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। পূরণ করা সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রধানের শংসাপত্র, কৃষি জমির রেকর্ডের জেরক্স, আধার কার্ডের জেরক্স ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ নির্দিষ্ট কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে আলু বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন সংশ্লিষ্ট কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ একটি ‘বন্ড’ দেবেন। সেই বণ্ডে ব্লক কৃষি আধিকারিক বা তার প্রতিনিধি সই করে দেওয়ার পর তা নিয়ে বাঁকুড়া জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কে স্থানীয় শাখায় গেলে আলু বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থের চেক কৃষকরা সেখান থেকে পেয়ে যাবেন।

একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, কোতুলপুর এলাকার ১৪টি কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতার ১৫ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনা হবে।

প্রশাসনিক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ কৃষক থেকে শাসক দল সমর্থিত কিষাণ ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসও। প্রত্যেকেই মনে করছেন এই উদ্যোগের ফলে অসংখ্য সাধারণ কৃষক উপকৃত হবেন।

আলু চাষী স্বপন কুমার দে দু’বিঘার মতো আলু চাষ করেছেন জানিয়ে বলেন, খোলা বাজারে এই মুহূর্তে তেমন দাম নেই। সরকার নির্ধারিত সাড়ে পাঁচ টাকা কেজি দরে ২৫ কুইন্টাল আলু বিক্রি করে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

কোতুলপুর ব্লক কিষাণ ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম খানের মতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের কথা ভোলেননা। আলু রোপনের সময় রাজ্য কৃষি দপ্তরের তরফে কোতুলপুর ব্লকে, কৃষকদের ২হাজার বস্তা আলু বীজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল। আবার এই মুহূর্তে এখানকার আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু কেনার কাজ শুরু হল।