স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রথযাত্রা নিয়ে নাছোড় মনোভাবে অটুট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপিকে শর্তসাপেক্ষে রথযাত্রা করার অনুমতি দিয়েছে৷ কিন্তু সন্ধ্যায় রাজ্য সরকার প্রধানবিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে৷

শুক্রবার সকালে, ওই মামলার সওয়াল জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তর সওয়াল, রাজ্যের গোয়েন্দা রিপোর্ট, জেলার পুলিশ সুপারদের রিপোর্ট, জেলা শাসকের রিপোর্ট আদালতে জমা দিলেও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সেই রিপোর্টকে খুলেও দেখেননি৷ পুলিশের রিপোর্ট না দেখেই বিচারপতি এক তরফা রায় দিয়েছেন৷ বিচারপতি চক্রবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশকে গুরুত্বই দেননি৷

পড়ুন: রথ নিয়ে হাইকোর্টে বিজেপি-সরকার সওয়াল জবাব ৯২ মিনিট

অ্যাডভোকেট জেনারেলের বক্তব্য, বিজেপি রথযাত্রার লিফলেটে লিখেছে, বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে তৃণমূল, হিন্দুদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে তৃণমূল৷ এই সমস্থ অ্যাজেন্ডা রাজ্য বিজেপির লিফলেটে লেখা রয়েছে৷ সারা রাজ্যকে তা অসান্ত করতে পারে৷

প্রধান বিচারপতি পালটা প্রশ্ন করেন, এগুলি একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ মাত্র৷ তাতি কী ধরে নিতে হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিঘ্নিত হবে৷ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, মিটিং মিছিল করার গণতান্ত্রিক অধিকার রাজ্য সরকার সর্ব খরতে পারে না৷ প্রশাসন যদি রথযাত্রা করতে সহায়তা করে তবে সমস্যা কোথায়?

পড়ুন: ভোটের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভায় রদবদল মমতার

এদিকে, রাজ্য বিজেপির রথযাত্রার দিন ফের পরিবর্তন হতে পারে৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ রায়ে জানায়, শর্তসাপেক্ষে রথযাত্রা করতে দিতে হবে বিজেপিকে৷ সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যদি ডিভিশন বেঞ্চে বা সুপ্রিম কোর্টে মামলা নিয়ে যায়, তবে আরও সময় লাগবে৷

কিন্তু রথযাত্র বা গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার উদ্যোক্তারা এখনই জানাতে চাননা কবে এই যাত্রা হবে৷ বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারকে এবং পুলিশকে ১২ ঘন্টা আগে জানানোর কথা বলেছে আদালত৷ দরকার হলে ৭২ ঘন্টা আগেও জানানো হতে পারে৷ কিন্তু আগাম জানানো হবে না৷ যাত্রার পরবর্তী তারিখ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে৷ এব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানী বিজেপি৷

পড়ুন: লোকসভা ভোটের আগে মোদী বিরোধী মহাজোট রাজ্যে

এদিকে, আদালতে চমক দিয়েছে রাজ্য৷ রাজ্য পুলিশের পক্ষে সোয়াল করতে ওঠেন,বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি৷ তিনি আদালতে সওয়াল করতে উঠল তার তীব্র বিরোধিতা করেন বিজেপির আইনজীবী এস এস কাপুর। সিংভি বলেন, মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে পুলিশের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। কারণ আইন শৃঙ্খলা দেখার দ্বায়িত্ব আমাদের। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, যেখানে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলছেন তাহলে কেন আদালতে হস্তক্ষেপ করছেন আইনজীবী সিংভি। মামলা জমে উঠেছে৷