কলকাতা:  অর্ধ-দিবস ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মতো আজ সোমবার তিনটের পর ছুটি হয়ে যায় সমস্ত রাজ্য সরকারি দফতর। ক্ষিতি গোস্বামীর মৃত্যুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। এদিন সকালে নবান্ন থেকে জারি এক নির্দেশিকায় ক্ষিতি গোস্বামীর স্মরণে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা হয়। সেই মতো বিকেল ৩টের পরেই ছুটি হয়ে যায় সব রাজ্য সরকারি অফিস। ধীরে ধীরে দফতর ছাড়তে শুরু করেন সমস্ত কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, রবিবার ভোর চারটে নাগাদ চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর মৃ্ত্যু হয়েছে৷ বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন৷ সম্প্রতি চেন্নাইয়ের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারও হয় তাঁর। তার পর মোটামুটি ভালই ছিলেন আরএসপি-র এই বর্ষীয়ান নেতা। শনিবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয় চেন্নাইয়ের হাসপাতালে। এ দিন রাতে বুকের সমস্যা হচ্ছিল বলে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে, আজই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল ক্ষিতি গোস্বামীর। তবে,রাতে বুকের যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় ফের হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে ক্ষিতি গোস্বামীর।

আরএসপির রাজ্য সম্পাদক ছিলেন তিনি৷ ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকুরিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন ক্ষিতি গোস্বামী। ২০০১ সালে ওই কেন্দ্রেই তৃণমূলের সৌগত রায়ের কাছে হেরে যান। ২০০৬ সালে ফের জেতেন তিনি। বামফ্রন্টের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি৷ শেষ বাম সরকারের পূর্ত মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে ডিলিমিটেশনের পর ঢাকুরিয়া কেন্দ্র অবলুপ্ত হলে আর ভোটে দাঁড়াননি তিনি।

ইস্টবেঙ্গলের আজীবন সদস্য ছিলেন এই বাম নেতা৷ বাম জমানায় সরকারে থেকেও বারবার সরকারের সমালোচনা করে শিরোনামে এসেছিলেন ক্ষিতি গোস্বামী। ২০১৮ সালে আরএসপি-র সর্বদলীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ক্ষিতি গোস্বামীর মৃত্যুতে শোকের আবহ রাজ্য রাজনীতিতে।