স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সোমবার হাওড়ার শরৎ সদনে চলছিল মুখ্যমন্ত্রীর খোলা বৈঠক। বিভিন্ন বৈঠক নিয়েই এদিন ক্ষুব্ধ মেজাজে মেলে মুখ্যমন্ত্রীকে। বিশেষ করে পুরসভায় কর্মী নিয়োগ ও কলেজে কলেজে বেলাগাম শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বেজায় চটে যান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যেই স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। সেই প্রসঙ্গে কথা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলেজের আংশিক সময়ের শিক্ষকদের জন্যও বেতন বাড়াবে রাজ্য সরকার।

স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকদের পাশাপাশি বেতন বাড়ানোর দাবি ছিল কলেজের আংশিক সময়ের শিক্ষকদেরও। এর আগে মার্চে বেকুটার এক অনুষ্ঠানে গিয়ে কলেজ-বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর কথা বলে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর আজ সেই কথাতেই পূর্ণতা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে সব রকমের আংশিক সময়ের শিক্ষকদের একই নামে ডাকা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন হাওড়ার শরৎ সদনে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের একেবারে শেষের দিকে এই ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এখন থেকে পার্ট টাইম, কনট্রাকচুয়াল, হোল টাইম, গেস্ট লেকচারারদের সবাইকে ‘স্টেট এডেড কলেজ টিচার’ করা হবে। যাঁদের ইউজিসির চাহিদা মতো যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের ১০ বছর কাজ করলে ৩০ হাজার, ১০ বছরের কম কাজ করলে ২৬ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। যাঁদের সেই যোগ্যতা নেই, তাঁরা ১০ বছর কাজ করলে ২০ হাজার টাকা ও বাকিরা মাসে ১৫ হাজার টাকা করে পাবেন। যাঁরা এখনই এই টাকার থেকে বেশি পান, তাঁদের পে-প্রটেকশন দেওয়া হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আংশিক সময়ের কলেজ শিক্ষকরা বেশ কিছু সুবিধা পাবেন। যার ফলে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ারও সুবিধা হবে। এখানেই শেষ নয়, এদিন মমতা জানান, স্টেট এডেড কলেজ টিচারদের অবসরের সময়ে গ্র্যাচুয়িটির পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। এক লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ করা হচ্ছে। এখন প্রতি তিন বছর অন্তর পাঁচ শতাংশ হারে আংশিক সময়ের কলেজ শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি হয়। এবার সেটা প্রত্যেক বছর তিন শতাংশ হারে বাড়বে। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে শিক্ষা দফতর।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রেক্ষিতে এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যেখানে তিনি জানান, এখন বিভিন্ন কলেজ তাদের মতো করে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে। এটা বন্ধ করতেই এই সম্মান দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের মতই খুশি বেঙ্গল এলিজিবল কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স এ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির সভাপতি ড. বিপ্লব মণ্ডল। তিনি Kolkata 24×7কে বলেছেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে গেস্ট লেকচারার বন্ধুদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হল। এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। তবে আমরা আমাদের ওয়ান টাইম পোস্ট এবং স্কেলের দাবি থেকে সরছি না।