স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান : জেলা জুড়ে কিষাণ মাণ্ডিতে অভিযান চালালেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারী ১ ও ২ এবং বর্ধমান ১ ও ২ ব্লকের কিষাণ মাণ্ডিতে অভিযানে বেড়িয়েও মাঝপথেই জরুরী কাজে কলকাতা ফিরে গেলেন খাদ্যমন্ত্রী৷ এদিন দুপুরে জ্যোতিপ্রিয়বাবু সরকারী সহায়ক মূল্যে কিষাণ মাণ্ডিতে ধান কেনার কাজ খতিয়ে দেখতে বের হন।

এদিন জরুরি কাজ থাকায় তিনি কলকাতায় ফিরে যান৷ ফলে বর্ধমান ১ ও ২ কিষাণ মাণ্ডিতে তিনি যেতে পারেননি। মেমারি ১ ও ২ ব্লকের অধীন কিষাণ মাণ্ডিতে গিয়ে তিনি সরকারি সহায়ক মূল্যে কিভাবে ধান কেনা হচ্ছে তা জানতে সরাসরি চাষীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এদিন কুচুট এলাকার কিষাণ মাণ্ডিতে কিছু চাষী তাঁর কাছে বেশি পরিমাণ ধান কেনার বিষয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন : নতুন রাজত্বের পথে যিশু, রাজকীয় লুক দেখলে চমকে যাবেন

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি সহায়ক মূল্যে একজন চাষী একবারে ৯০ কুইণ্টাল ধান বিক্রি করতে পারতেন৷ এদিন খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাকে পূরণ করা গিয়েছে৷ বর্তমানে রাজ্য সরকারকে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ধান কিনতে হচ্ছে। এদিন উপস্থিত জেলা খাদ্য নিয়ামককে তিনি জানিয়ে যান, সরকারিভাবে নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে, সেখানে একজন চাষী একবারে ৪৫ কুইণ্টালের বেশি ধান বিক্রি করতে পারবেন না।

এদিন মেমারি ১ ও ২ কিষাণ মাণ্ডিতে ধান কেনার কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে যান খাদ্যমন্ত্রী। যদিও পাশাপাশি খাদ্যমন্ত্রী এদিন জেলা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন চলতি সময়ে ধান কেনার বিষয় নিয়ে। ফড়েদের উত্পাত কমাতে কি কি ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি খাদ্যমন্ত্রী জানিয়ে যান, যাঁরা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী তাঁদের কাছ থেকে একবারে ৩০ কুইণ্টাল ধান কিনতে হবে এবং এ ব্যাপারে তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আরও পড়ুন : সিরিয়ায় সেনা ঘাঁটি বৃদ্ধি করছে আমেরিকা

উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলায় এবছর ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে এফসিআই কিনবে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। বাকি ৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনবে রাজ্য সরকার। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে বলে এদিন জানান, জেলা খাদ্য নিয়ামক দেবমাল্য বসু।

তিনি জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ফড়েদের উত্পাত কমাতে প্রতিটি ব্লকে ব্লকে তৈরী করা হয়েছে একটি শক্তিশালী কমিটি। তাঁরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এদিকে, ধান কেনার কাজে রাজ্য সরকারের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলি ছাড়াও অতিরিক্ত যে ক্রয়কেন্দ্রগুলি খোলা হয়েছিল সেখানে কর্মী অভাব দেখা দেওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এব্যাপারে দেবমাল্যবাবু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্তদের এই ক্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রে কর্মী না থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্লকের অবসরপ্রাপ্তদের এই কাজে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সরকারীভাবে ফড়েদের উত্পাত কমানোর কথা বলা হলেও ইতিমধ্যেই ধান বিক্রি নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন : পর্যটন শিল্পের বিকাশে সাজছে বিষ্ণুপুর

প্রয়োজনীয় জমির অতিরিক্তি ধান বিক্রি করা কিংবা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ধান বিক্রির টোকেন বিলি করার মত অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। এদিনই মেমারীর বড়পলাশনের মণ্ডলগ্রাম থেকে এই ধরণের অভিযোগ উঠেছে। দেবমাল্যবাবু জানিয়েছেন,বর্তমানে ১১১টি রাইস মিল ধান কেনার কাজ করলেও আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ২০০ রাইস মিলেই এই ধান কেনার কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ৩৭৫টি রাইস মিল চালু রয়েছে।