স্টাফ রিপোর্টার, শিলিগুড়ি: বিরোধীরা তাঁর সরকারের বছরভর উৎসব প্রসঙ্গে যতই গালমন্দ করুক না কেন, তাতে কিস্যু এসে যায় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ সোমবার ফের তা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার বিকেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করে নিজস্ব ঢঙে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন ‘‘‘বছরভর উৎসব চলবেই৷ উৎসবের মধ্যে দি্য়ে সকলকে আরও আপন করে নেওয়া যায়!’’

কেন একথা বলছেন, নিজের বক্তব্যের সপক্ষে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ মমতার কথায়, ‘‘উৎসব আমাদের সকলকে এক জায়গায় এনে জড়ো করে৷প্রত্যেক জাতির একটা নিজস্বতা রয়েছে৷

প্রত্যেকের প্রাণের ভিতরে একটা ভাষা থাকে৷ যেটা হৃদয়ের ভাষা৷ হৃদয়ের সেই ভাষাকে পরস্পর আনতে পারে এই উৎসবই৷’’ পরামর্শ দিয়েছেন, ‘‘বছরভর উৎসবে মাতুন৷ আনন্দে থাকুন৷ ভাল থাকুন৷’’ বলেছেন- আমাদের উৎসব শুরু হয় দুর্গাপুজো থেকে৷ এরপর দেওয়ালি, পাহাড়ের উৎসব, ইদ, বড়দিন, নবান্নে নতুন ধান৷আরও কত কি৷

সরকারের তরফে সংস্কৃতি উৎসব, খেলাধুলো উৎসব, পিঠে পায়েসের উৎসব, ছাত্র-যুব উৎসব সবই এবারও হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১২ জানুয়ারী বিবেকানন্দের জন্মদিবসে সারা রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ব্লকে বিবেক উৎসব, ২৩ জানুয়ারী নেতাজীর জন্মদিবসে ব্লকে ব্লকে সুভাষ উৎসব পালিত হবে৷এছাড়া সরকারি ভাবে জেলায় জেলায় কৃষি মেলা, বিজ্ঞান মেলা, লোক সংস্কৃতির মেলা সহ বহু মেলা হবে৷

দাবি করেছেন- রাজ্যে উন্নয়নের বন্যা বইছে৷ বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের নতুন সড়ক তৈরি হচ্ছে৷ একই সঙ্গে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগকে আরও সুদৃঢ় করে তুলতে পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা থেকে হুগলির জয়রামবাটি, বীরভূমের মোড়গ্রাম হয়ে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিকল্প একটি সড়ক গড়ে তোলা হচ্ছে৷

বলেছেন, ‘‘শিলগুড়ি জুড়ে অনেক কাজ হচ্ছে৷ কোচবিহারে এয়ারপোর্ট তৈরি হয়েছে৷ চতুর্থ মহানন্দা সেতুও তৈরি হয়ে গেছে৷নতুন করে ১টি টি-বোর্ড তৈরি করেছি৷ ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য৷বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে জিটিএ ও খুব ভাল কাজ করছে৷’’

উত্তরবঙ্গের মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘এখন আর উত্তরবঙ্গ নেগলেট- এটা আপনারা বলতে পারেবন না৷ উত্তরবঙ্গে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি আসে, তাহলে সেটা আমি৷ প্রতি মাসেই আপনাদের এখানে আসি৷ আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি৷আপনারা যত এগিয়ে যাবেন তত ভাল৷ আপনারা ভাল থাকলে বাংলা ভাল থাকবে৷’’

শুধু বক্তৃত্বা শোনা নয়, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনার দিন মানুষের বিনোদনের স্বার্থে অনুষ্ঠান শুরুর ঘণ্টা আড়াই আগে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রাপালার আয়োজন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ তাঁর কথায়, ‘‘মানুষ কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও কত দূর দূর থেকে এসেছেন৷ সামনের বছর থেকে আমরা সকাল সকাল এই অনুষ্ঠান শুরু করব৷ প্রথম ঘণ্টা আড়াই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে৷ তারপর উদ্বোধ্বনী অনুষ্ঠান৷’’

মুখ্যমন্ত্রী যখন একথা বলছেন তখন মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও রাজ্যের আরেক মন্ত্রী নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন৷ আচমকায় সেদিকে তাকিয়ে স্কুলের দিদিমণির ভঙ্গিমায় মমতা বলেন, ‘‘রবি আমি কি বলছি শোনা হচ্ছে, না গল্প হচ্ছে? ’’ পরক্ষণেই নিজের মেজাজকে শীতল করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলতে থাকেন, ‘‘সাংবাদিকদের বলছি- এসব আবার লিখে দেবেন না৷ আপনাদের এসব অভ্যাস আছে৷ ওরা দু’জন মন্ত্রী৷ কথা বলতেই পারে৷আমি এমনি বললাম, আর কাল দেখব আপনারা লিখে দিয়েছেন- মুখ্যমন্ত্রী বকলেন মন্ত্রীকে!’’

মমতা কন্ঠে এমন কথা শুনে উপস্থিত সাংবাদিকরা তো বটেই জনতার ভিড়েও ফিসফিসানি ওঠে- ‘আরে দিদি তো নিজেই খবরের হেডলাইন করে দিচ্ছেন- মুখ্যমন্ত্রী বকলেন মন্ত্রীকে!’’
মঙ্গলবার আলিপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর৷ বুধবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন৷ শিলিগুড়িতে সাতদিন ধরে উত্তরবঙ্গ উৎসব চললেও উত্তরের বাকি জেলায় এবার উৎসব হবে দু’দিন ধরে৷