কলকাতা: রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের জন্য সোমবার বাতিল হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক৷ নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বন্যা মোকাবিলা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে৷

জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দামের উপর নজরদারি করার জন্য গঠিত টাস্ক ফোর্সের বৈঠকটিও বাতিল করা হয়েছে। ওই বৈঠকটি আগামী বৃহস্পতিবার হবে বলে জানা গিয়েছে। আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতায় ফেরার কথা। শনিবারই ঠিক হয়, মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের বন্যাদুর্গত এলাকায় যাবেন। সেইমতো রবিবার বিকালে তিনি ট্রেনে বহরমপুর হয়ে সড়কপথে মালদহ যান। সোমবার মালদহ ও দুই দিনাজপুরের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন৷ জানান, উত্তর ও দক্ষিণের বন্যার জেরে কমপক্ষে আড়াই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷

রাজ্যের বন্যার পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের ঘারে দায় চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘‘কেন্দ্র নিয়মিত ড্রেজিং না করায় এখানকার নদীগুলির নাব্যতা কমে গিয়েছে৷ সহজেই জল উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায়৷ গোটা রাজ্যে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ আমাদের রাজ্যের অবস্থান এমনই যে চার দিকের জল আমাদের নিতে হয়৷ না-হলে নদীগুলি এমনিতে ধুঁকছে৷ গরমের সময় জল মেলে না৷ অথচ বর্ষায় বাঁধ ভেঙে যায়৷ আশপাশের বাঁধ ভেঙে যাবে, ব্যারাজের জল ছাড়া হবে৷ আর ভাসতে আমাদের৷’’

চলতি মরসুমে বন্যায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১১টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত বলে হিসাব দেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বানভাসি মানুষের সংখ্যা দেড় থেকে দু’ কোটি৷ এর মধ্যে মালদহ ও দুই দিনাজপুরের সংখ্যা প্রায় ৪৫ লক্ষ৷ রাজ্যে বন্যায় এ পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ১৫২ জন৷ কৃষি, পূর্ত, প্রাণিসম্পদ বিকাশ ও পঞ্চায়েত দফতরকেও আলাদা ভাবে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মমতা৷ সব রিপোর্টই মুখ্যসচিবকে দেওয়া হবে৷ যার ভিত্তিতে তিনি চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লিতে পেশ করবেন৷ মূলত, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামীকাল জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে৷