স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ফের বিস্ফোরক বিজেপি রাজ্য সভাপতি৷ মালদহে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে উদ্দ্যেশ্য করে একের পর এক বোমা ছুঁড়লেন দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন ‘নারদা সারদার টাকা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই বালি খাদান, গরু পাচার ও কয়লা খাদানের টাকা দিয়ে টিএমসি চলছে। এর প্রতিবাদ করছি আমরা। তাই আমাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, কেস দেওয়া হচ্ছে। যেখানেই আমি সভা করতে যাই সেখানেই আমাকে একটা করে কেস দেওয়া হয়।’

রাজ্য জুড়েই বিজেপিকে নিশানা করছে তৃণমূল, এমনই অভিযোগ দিলীপ ঘোষের৷ এদিন মালদহ থানার কোর্টস্টেশন এলাকায় যোগদান কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, ‘তৃণমূলের সাথে মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই, তাই ভোট দিতে দিচ্ছে না৷ পঞ্চায়েতে ভোট দিতে দেয়নি। ৩৪ শতাংশ আসনে কেউ নমিনেশন দিতে পারল না। ৪২ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পারল না৷ এটা কি ধরনের গণতন্ত্র? প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ৷

আরও পড়ুন : ভোটের আগে দলকে চাঙ্গা করতে শহরে কানহাইয়া কুমার

তিনি এদিন বলেন ‘ডিসেম্বর মাসে দুটো কর্পোরেশন ও ১৫ টা পুরসভায় ভোট ছিল। ভোট হল না কেন? কারণ এখন যদি নির্বাচন করে তাহলে কেউ টিএমসিকে ভোট দেবে না। যদি জিততে হয় তাহলে পঞ্চায়েতের মতো মারপিট করে জিততে হবে। আবার রক্তক্ষরণ হবে খুনোখুনি হবে। তাই ভোট বন্ধ করে দাও।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, ‘সেদিন বসিরহাটে আমরা মিছিল করেছিলাম, আমাদের সভার অনুমতি দেয়নি৷ সেই মিছিলে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে৷ মহিলাদেরও ছাড়েনি৷ এখনও পর্যন্ত ৪৯ জন জেলে আছে৷ আমরা জানি আন্দোলন করলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় পরে জামিন দিয়ে দেয়। ১০ দিন ১২ দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হচ্ছে’

এরপরেই তিনি লোকসভা ভোটের প্রসঙ্গ তোলেন৷ তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ লোকসভা ভোটের পরে পুলিশ দিয়ে ভোট করবেন ভেবেছেন। টিএমসির বন্ধুদের বলে দিচ্ছি, পুলিশ আপনাদের হাতে থাকবে না, পাবলিকও আপনাদের হাতে থাকবে না। এই লোকসভায় টিএমসিকে দেখিয়ে দিবো আমরা কত ধানে কত চাল। দাদাগিরি গুন্ডাগিরি করে ভোট করতে হয়। তার শোধ বোধ তুলে নেব আমরা। পুলিশকে দিয়ে পিটিয়ে পঞ্চায়েত ভোট লুঠ করেছিলেন ওনারা। যদি ভেবে থাকেন পঞ্চায়েতে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে যেভাবে ভোট লুট করেছিলেন, তা লোকসভায় করবেন, তা ভুলে যান’

আরও পড়ুন : ‘পদত্যাগ করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন মোদী’

তাঁর দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আমরা বুথে রাখতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বুথের কাছাকাছি থাকবে না। দিল্লির প্যারা মিলিটারি ফোর্স আসবে। তারা বসে থাকবে, আপনারা যাবেন, লাইন দেবেন দাঁড়াবেন, তারা ভোটারকার্ড চেক করবেন, আপনি ভেতরে যাবেন যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন। আপনার ভোট আপনি দেবেন, আপনার ভোট অন্য কেউ দেওয়ার সাহস পাবে না। সেই সেন্ট্রাল ফোর্সের হাতে লাঠি ও থাকবে পিঠে বন্দুক ও থাকবে। যেটা দরকার সেটা তারা ব্যবহার করবে। আমি বলে দিচ্ছি কেউ বাঁচতে পারবে না। আমরা ত্রিপুরায় স্টাইলে ভোট করব’৷

এদিন বিজেপির যোগদান মঞ্চে পুরাতন মালদা পুরসভার প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলার অতুল চন্দ্র সরকার সহ দেড়শো ট্রেড ইউনিয়ান কর্মী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পিন্টু দত্ত সহ দুশো কর্মী সর্মথক বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্য সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র সহ অন্যান্য বিজেপি কর্মী সর্মথক।

আরও পড়ুন: বাজারে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় ২০ টাকার নতুন নোট

তবে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের পালটা দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার৷ তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের সাথে রয়েছে৷ দিলীপ বাবুর বক্তব্যের প্রতিবাদ করবেন মানুষই৷ সারদা নারদার কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না৷ লোকসভা ভোট নিয়ে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কথা বলেছেন, তাতেও কোনও কাজ হবে না৷ দিদির উন্নয়নই হবে মানুষের একমাত্র পথ৷ দিলীপ বাবুর মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছে দিদির উন্নয়নের কাছে৷’