কলকাতা: অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা তথা সারা দেশের গৌরব৷ উল্টে আর তাঁকে নিয়েই অপ্রীতিকর মন্তব্য করছিলেন বিজেপির কয়েকজন নেতা৷ তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কুরুচিকর কথা বলতে পিছপা হচ্ছেন না তারা৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে দলের নেতাদের ‌নির্দেশ দিল রাজ্য বিজেপির৷ এমনটাই সূত্রের খবর৷

রাজ্যের এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মনে করেন, প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের মনে এখন তাদের ঘরের ছেলে৷ এটা তাদের কাছে গর্বের বিষয়৷ তাদের সেই ভাবাবেগকে আঘাত করা মানে, বাংলার মানুষ সেটা মোটেই ভা‌ল ভাবে নেবেন না৷

অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বাংলার মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করবে তৃণমূল৷ ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন বিজেপি বিরোধীরা৷ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ প্রসঙ্গে তৃণমূ‌লের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিজেপি ও গেরুয়া শিবিরের সংকীর্ণ মানসিকতাই প্রতিফলিত হচ্ছে।

নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিদেশিনীকে বিয়ে করলেই যদি নোবেল পাওয়া যায়, তাহলে বিজেপি নেতারা নিজেরা সেটা করছেন না কেন? তাহলে আমাদের চারপাশে আরও অনেক নোবেলজয়ী পেয়ে যাব।

উল্লেখ্য,নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, ‘যাঁদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, নোবেল পান তাঁরাই।” এই মন্তব্যে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও কটাক্ষ করা হয় বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী এস্থার দুফলো যৌথভাবে সম্প্রতি নোবেল পেয়েছেন। এই বিতর্কিত মন্তব্য করার প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন রাহুল সিনহা৷ উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন অমর্ত্য সেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন বিদেশি অর্থনীতিবিদ ইভা কোলোরনি।

তবে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‘উনি বিরাট অর্জন করেছেন। বহু মানুষ তাঁদের মত জানিয়েছেন। তাঁরা ওঁর সাফলে অভিভূত। আমি মনে করি উনি দেশ তথা সারা বিশ্ব জুড়ে চলতে থাকা অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার ব্যাপারে উনি গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেবেন।”