স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় কেন্দ্রের দেওয়া হিসেবের ধারে কাছে এল না রাজ্য। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে এদিন সকাল আটটা পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫৮। কিন্তু এদিন বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিব জানালেন, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭২। প্রায় দু’শোর কাছাকাছি পার্থক্য হওয়ায় অসংগতির অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩৩। বুধবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ২২। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭২। গত কাল এই সংখ্যা ছিল ৫৫০। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন।

মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রোগমুক্ত হয়েছেন ১৫ জন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত রোগমুক্তের সংখ্যা ১৩৯। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯০৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যা প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৮৩ জনের। গত কাল সেই পরিমাণ ছিল ১৬১। অর্থাৎ প্রতি দিনই কোবিড নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।’’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ৭২৫। রাজ্যের হিসেবে সংখ্যাটা ৫৫০।

এ দিন মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন তার ৮০ শতাংশই কলকাতা, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা থেকে। বাকি হুগলি থেকে। তিনি সেই তথ্য দিয়ে জানান, তার আগের দু’দিন মোট ৬টি জেলা থেকে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছিল। সেই সংখ্যা কমে এখন অধিকাংশই তিনটি জেলা থেকে। তিনি জানান, রাজ্যের অরেঞ্জ জোনের ২টি জেলা থেকে গত ২৫ দিন কোনও সংক্রমণ হয়নি, ৩টি জেলা থেকে ২১ দিনের মধ্যে নতুন সংক্রমণ নেই। আরও ২টি জেলায় গত ৭ দিনে কোনও সংক্রমণ নেই।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বললেও রাজ্যের বুলেটিনে তার উল্লেখ থাকে না। কেন্দ্র ও রাজ্যের তথ্যে এই অসঙ্গতির অভিযোগে সরব বিরোধী দলগুলি ও চিকিৎসকদের একাংশ।

যদিও সরকারের বক্তব্য, যাঁদের কোনও ক্রনিক রোগ রয়েছে তাঁদেরই করোনাভাইরাস থেকে ঝুঁকি বেশি। করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে এখনও পর্যন্ত যতজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কো-মর্বিডিটি ছিল। ফলে কোনও তথ্য গোপন করা হচ্ছে না.

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV