আগরতলা: কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত এনডিএ জোট সরকারের নতুন কৃষি বিলের বিরোধিতায় দেশ জুড়ে চলছে কৃষক প্রতিরোধ ও সড়ক অবরোধ। এই বিদ্রোহের রোষে ত্রিপুরা ফের সরগরম। রাজধানী আগরতলায় প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম অবরোধ শুরু করেছে।

মাত্র একদিন আগে রাজ্যের ১০, ৩২৩ জন কর্মচ্যুত শিক্ষক ও শিক্ষিকা বিকল্প রোজগারের দাবিতে মহাকরণ অভিযান করেন। সেই অভিযানে পুলিশের লাঠি চালনায় জখম হন অনেকে। আন্দোলনের মুখে সরকার নরম হয়ে আলোচনা করলেও সুরাহা হয়নি। সাতদিন পর ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা।

১০, ৩২৩ আন্দোলনের পরেই কৃষক প্রতিরোধের আন্দোলনে ফের নাজেহাল সরকার। যদিও রাজ্য বিজেপি নতুন কৃষি বিলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। এই অবস্থায় শুক্রবার দেশজোড়া কৃষক বিদ্রোহের ঢেউ এসে লাগল ত্রিপুরায়।

এই বিলের আওতায় বেসরকারি সংস্থাগুলির অধীনে সরকার কৃষিক্ষেত্র ও উৎপাদিত ফসলকে ফেলে দিতে চাইছে। এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। বিলটি সংসদে পাশ করানো নিয়ে তুমুল সরগরম হয় লোকসভার অধিবেশনে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার সফল হয়। এর পরেই সারা ভারত কৃষকসভার নেতৃত্বে ৩১টি কৃষক সংগঠন যৌথভাবে বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়া। শুক্রবার তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পশ্চিমে পাঞ্জাব থেকে পূর্বে ত্রিপুরায়।

জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে দিল্লি, কর্ণাটক, তামিলনাডু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অসম সহ উত্তর পূর্ব ভারতের সব রাজ্যেে বিদ্রোহের ছবি।

ত্রিপুরার সর্বত্র কৃষক প্রতিরোধ শুরু হতেই কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, রাজ্যে সন্ত্রাস কায়েম করে রাখা বিজেপি এই কৃষি বিল বিরোধী আন্দোলন দমাতে মরিয়া।

আগরতলায় সড়ক অবরোধ শুরু হতেই বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতেই সিপিআইএম সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট বাম নেতা বাদল চৌধুরী বেরোজগারি প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির প্রবল সমালোচনা করেন।

রাজ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রীতিমতো উদ্বেগজনক। এর মাঝে পরপর আন্দোলন ও জমায়েত করছে সরকারে থাকা বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএম, কংগ্রেস। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা আরও প্রবল হচ্ছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।