১৯৫০-এর দশকে হিমালয় সীমান্তে চীন প্রথম ভারতের ভূখণ্ড গ্রাস শুরু করে৷ সেই সময়েই তারা সুইজারল্যান্ডের সমান আয়তনের আকসাই চিন দখল করে সেখানে সামরিক প্রয়োজনে রাস্তা বানাতে আরম্ভ করে দেয়৷ ভারতের স্বাধীনতার সময়কার করদ রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্গত আকসাই চিনে কোনও নজরদারি ছিল না৷ সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় চীন৷ আকসাই চিনে বেজিং যে স্ট্র্যাটেজিক হাইওয়ে তৈরি করেছে তার মাধ্যমেই তারা তাদের দুই বিদ্রোহী তল্লাট তিব্বত ও সিনকিয়াংয়ের মধ্যে যোগাযোগ রাখে৷

এক সময় আকসাই চিনে যা করেছিল, এখন ভুটানের ডোকালাম মালভূমিতেও সেই একই জিনিস করার তালে রয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ৷ তারা সেখানে সামরিক রাস্তা বানিয়ে ভুটানি ওই ভূখণ্ডটিকে গ্রাস করতে চাইছে৷ আর এ নিয়েই ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে চোখে চোখ রেখে স্নায়ুযুদ্ধ চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে উঠেছে৷ ভুটানের পাশে দাঁড়ানো ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে৷ তার কারণ, ভারত ভুটান রাষ্ট্রের নিরাপত্তার গ্যারান্টার৷ বহু বছর বাদে ভারত ও চীনের সামরিক শক্তির মধ্যে এ রকম একটা অবস্থা তৈরি হল৷

প্রতিবেদক-ব্রহ্ম চেলানি

এখন পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, তিব্বত-ভুটান এবং ভারতের সিকিম রাজ্য যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানে সীমান্তের উভয় দিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চীনের পিএলএ, উভয়েই প্রচুর পরিমাণে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে৷ এর দরুন অবশ্য ডোকালামে চীনের সামরিক রাস্তা বানানোটা বন্ধ হয়েছে৷ বেজিংয়ের দাবি, ওই জায়গাটা ‘তিব্বতিদের ঐতিহ্যবাহী পশুচারণের এলাকা’৷ যেমন ঠিক একইভাবে বেজিং বলে যে, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সমুদ্র ‘চীনাদের মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী তল্লাট’৷ ডোকালামে চীনের তৎপরতায় ভারত বাধা দেওয়ায় বেজিং ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে৷ প্রায় প্রতিদিনই ভারতকে তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে৷ পরিস্থিতি জটিল দেখে ভারতীয় স্থলবাহিনী আপাতত সেখানে ১০ হাজার সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে৷

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কড়াভাষায় ভারতকে ‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা’ নিতে বলেছে৷ বলা বাহুল্য তারা ১৯৬২ সালের হিমালয় সীমান্ত পেরিয়ে অতর্কিত হামলার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে৷ কিন্তু তারা এটা বলেনি, ভারতে ওই হামলা চীন করেছিল এমন একটা সময় বুঝে যখন কিউবার মিসাইল সংকট নিয়ে আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রবল টেনশন চলছিল৷ ডোকালাম নিয়ে চীনের বিদেশ মন্ত্রক দিল্লির উপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে এই ভাষায়, ‘নিঃশর্তে’ ভারতীয় সেনাদের ডোকালাম থেকে সরে যেতে হবে৷ ‘অর্থপূর্ণ আলাপ-আলোচনা’র আগে এটাই বেজিংয়ের ‘পূর্বশর্ত’৷

বেজিং এখন ভারতের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে আদাজল খেয়ে নেমেছে৷ রোজ তারা তিব্বতে সামরিক মহড়া চালিয়ে ভারতকে ভয় দেখাতে চাইছে৷ উদাহরণস্বরূপ, চীনা মিডিয়াতেই বেরিয়েছে, দিল্লিকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিতে তাদের ট্যাঙ্কবাহিনী সেখানে যুদ্ধমহড়া চালিয়েছে৷ তবে, চীন যত ভারতকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে এবং সমঝোতা করবে না বলে অনড় মনোভাব দেখাচ্ছে ততই বিশ্বের দরবারে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে৷

এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতে চীন যে জয়ী হয়ে দাঁড়াতে পারবে তা কিন্তু মনে হয় না৷ ভূগোল, সামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ, রণসজ্জা ও সমরাস্ত্র মোতায়েন এবং ভারতের অবস্থান, সব দিক খতিয়ে তবেই এ কথা বলছি৷ ভারতকে রক্তাক্ত করে ডোকালামের দখল নিতে গেলে চীনকে বেগ পেতে হবে৷ যদি সে আক্রমণ করতে আসে, তাহলে তাকে ভুগতে হতে পারে৷ ঠিক যেভাবে এপ্রিলে দলাই লামার তাওয়াং সফরকে কেন্দ্র করে তাদের প্রপাগান্ডা ধাক্কা খেয়েছিল, সেভাবেই৷ অরুণাচল প্রদেশে দলাই লামার প্রচার নিয়ে চীনের বিরোধী প্রচারে কোনও লাভ হয়নি৷ আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের মুখ পুড়েছিল৷ সম্প্রতি দুই দেশের সেনাদের মুখোমুখি হওয়ার সংকটেও তাদের সেভাবেই মুখ পোড়ার ঝুঁকি কিন্তু প্রবল৷

সাম্প্রতিক এই সংকটের মূল কারণ, নগণ্য রাষ্ট্র ভুটানে চীন তার আগ্রাসনকে আড়াল করতে চাইছে৷ যেখানে ৮ লক্ষের বেশি মানুষই নেই৷ এ ব্যাপারে বিভ্রান্তিু সৃষ্টির জন্য চীনারা তাদের প্রাচীন সামরিক তাত্ত্বিক সুন ৎজু-র চোখে ধুলো দেওয়ার রণনৈতিক নীতি অবলম্বন করেছে৷ জনসংযোগে ব্লিৎসক্রিগ ঘটিয়ে তারা এটাই অনবরত প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে যে, ভারতই আক্রমণকারী আর চীন আক্রান্ত৷ ঠিক যেভাবে তারা দক্ষিণ চীন সমুদ্রের উপর তাদের ঐতিহাসিক অধিকারের দাবি তুলেছিল, হুবহু সেভাবেই৷ যদিও দক্ষিণ চীন সমুদ্রে তাদের দাবি আন্তর্জাতিক বিবাদ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে ভিত্তিহীন বলে খারিজ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তাতেও বেজিংয়ের শিক্ষা হয়নি৷ তারা এখন দাবি করছে, ডোকালাম (অথবা চীনাদের মুখে ডংল্যাং) ‘আদ্যিকাল থেকে’ চীনেরই অন্তর্গত৷

চীনের কড়া হুমকি

সরকারিভাবে ভারতকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি চীন তাদের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমকেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে৷ ‘‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ডংল্যাং অঞ্চলে যে রণংদেহি অবস্থা তৈরি হয়েছে সেখান থেকে ভারতের ফৌজকে সরতেই হবে৷ হয় ভারতের সেনাবাহিনী স্বমর্যাদায় নিজেদের এলাকায় ফেরার রাস্তা বাছুক, নয়তো চীনের সেনারা তাদের লাথি মেরে ভাগাবে৷’’ গত ৫ জুলাই চীনের সরকারি ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসে বেরিয়েছে, ‘নয়াদিল্লিকে কটু শিক্ষা দিতেই হবে’’৷ পিএলএ-র ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইট চায়না মিলিটারি অনলাইনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ‘‘যদি কূটনৈতিক এবং সামরিক সূত্রে কোনও সমাধানে পৌঁছানো না-যায় কিংবা যদি এই ইস্যুটিকে ঠিকমতো ফয়সালা করা না-হয়, তাহলে আবার সামরিক সংঘর্ষের..ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷’’

ভুটানের আঞ্চলিক সুরক্ষার স্বার্থে ভারতের সেনাবাহিনী অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল৷ কিন্তু অবস্থাটা এত ঘোরালো হয়ে ওঠার পিছনে ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও কিছুটা দায়ী৷ যুদ্ধ অথবা শান্তি, যে কোনও অবস্থাতেই মিথ্যা রটানো ঠেকানোর ক্ষেত্রে সময় বাছার গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম৷ কিন্তু চীন ভুটানের ওই ঘটনা নিয়ে শোরগোল তোলার পর দিল্লি তার জবাব দিতে অন্তত চার দিন নষ্ট করেছে৷ অথচ, ভুটান ভারতের দীর্ঘদিনের রণনৈতিক মিত্র৷ যার ফলে বেশ কিছু দিন আগে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে চীন চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করল ঠিক সেইদিন যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অর্থাৎ ২৬ জুন৷ চীনা প্রচারের সেই টোপ ভারতের মিডিয়াও গিলে নিল৷ তারা বেজিংয়ের লাইনেই ওই অচলাবস্থার খবর প্রচার করল৷

সাম্প্রতিক সংকটে প্রমাণ হয়ে গেল, চীনের দীর্ঘকালের ধূর্ততার নীতির মোকাবিলায় দিল্লি এখনও বেশ পিছিয়ে আছে৷ তার উপর এ নিয়ে চীন যখন বন্যার মতো বিবৃতি দিচ্ছে তখন ভারতে বিদেশ মন্ত্রক ৩০ জুন তার জবাব দিল মাত্র একটি লাইনে৷ এটা ভারতের রক্ষণাত্মক রণনীতিগত মানসিকতারই ফল৷ একইসঙ্গে মারমুখী চীনকে শায়েস্তা করার জন্য অর্থনৈতিক ফায়দাকেও সে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে৷

ভারতের সঙ্গে বর্তমানে যে চীনের যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চলছে, সেখানে তাদের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৬০০০ কোটি ডলার৷ চীনের এই বাণিজ্যগত সুবিধা ঘুচিয়ে দিতে ভারত যদি তৎক্ষণাৎ নিষেধাজ্ঞা চাপাত, তাহলে কিন্তু শঠে শাঠ্যং সমাচরেত হয়ে যেত৷ কারণ, ঠিক এই একই কায়দা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে চীন এর আগে প্রয়োগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপিন্স, জাপান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে৷ ভারতে এখন চীনা দ্রব্যের বিপুল বাজার৷ সেখানে রাতারাতি ঝাঁপ ফেললেই চীনের তোড়ফোড় আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যেত৷ ভারতকে ঘিরে ফেলার রণনীতি নিয়েও তারা তখন নতুন করে ভাবতে বসত৷ এক্ষেত্রে ভারতের উদাসীনতাই চীনের সাহস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে৷

ডোকালামকে কেন্দ্র করে তিব্বত ইস্যু পর্যন্ত টেনে আনছে চীন৷ কিন্তু এই ইস্যুতেও ভারত পালটা আওয়াজ তুলতে ব্যর্থ হল৷ অথচ এ নিয়ে চীনেরই অবস্থা খারাপ করে দেওয়ার মতো তথ্য ভারতের হাতে ছিল৷ চীন ডোকালাম নিয়ে তিব্বতের ঐতিহ্য টেনে আনছে৷ ভারত কিন্তু তিব্বতের উপর চীনের দাবি নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারত৷

১৯৫১ সালে চীন পুরোপুরি গ্রাস করার আগে পর্যন্ত তিব্বত ছিল স্বায়ত্তশাসিত৷ প্রাচীনকাল থেকেই ভারতের সঙ্গে তার বাণিজ্য, পরিবহণ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল৷ যুগ যুগ ধরে এই সম্পর্ক ছিল বলেই, তিব্বতের শহরগুলি সবই ভারত সংলগ্ন৷ চীনের লাগোয়া নয়৷ কিন্তু চীনের লৌহ যবনিকার অন্তরালে যাওয়ার পর থেকেই গোটা হিমালয় এলাকার সুসংহত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে৷
আধিপত্য বিস্তার

এক সময় হান সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক সীমানা ছিল চীনের প্রাচীর৷ মিং রাজত্বেও (১৩৬৮-১৬৪৪) তার ব্যতিক্রম ঘটেনি৷ কিন্তু আধুনিক চীন তার থেকে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে৷ আঞ্চলিক দিক থেকে বিচার করলে, হান শাসন এখন ক্ষমতার তুঙ্গে রয়েছে৷ মঙ্গোলিয়াকে বাদ দিলে, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে মাঞ্চু কিং রাজবংশ যত দূর রাজ্যবিস্তার করেছিল, চীন এখন তার চাইতেও অনেক বেশি দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে৷ একটা বুলেট কিংবা একটা মিসাইলও খরচা না-করে, চুপিসাড়ে-গোপন যুদ্ধের আড়ালে কীভাবে এলাকা বাড়াতে হয়, হিমালয় এবং দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সমুদ্রে বেজিং তা অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছে৷ ‘‘বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডই মহাশক্তিকে ধারণ করতে পারে’’, চীনা ভূগোল-বিশারদ দু দেবিন এবং মা ইয়াহুয়ার এই কথাকেই আপ্তবাক্য ধরে অগ্রসর হচ্ছে চীন৷

আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা মেটাতে চীন কীভাবে ইতিহাসের ধুয়ো তোলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিই তার প্রমাণ৷ ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার যুদ্ধ চালানোর জন্য তিব্বত-সিকিম সীমান্ত নিয়ে ১৮৯০ সালের অর্থাৎ ঔপনিবেশিক আমলের একটি চুক্তি ধুলো ঝেড়ে বের করেছে বেজিং৷ যদিও ভুটানে নাক গলানোর সঙ্গে সেই চুক্তির কোনও সম্পর্কই নেই৷ তার উপর ১৯৮৪ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে চীনের যে চুক্তি হয়েছিল সেই অনুযায়ী ১৮৯০ সালের চুক্তিটি একেবারেই অকেজো হয়ে গিয়েছে৷ ’৮৪ সালের চুক্তি অনুযায়ীই ১৯৯৭ সালে হংকংয়ের হস্তান্তর ঘটে৷ বেজিং কথা দেয়, হংকংয়ের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ তারা মেনে চলবে৷ কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটা ছিল তাদের ধোঁকাবাজি৷ হংকং হাতে পাওয়ার পরই ১৯৮৪ সালের চুক্তিকে তারা বুড়ো আঙুল দেখায়৷ অর্থাৎ, আপন ঔপনিবেশিক স্বার্থসিদ্ধির যা যা করার চীন সেটাই করে৷ ঠিক যেমনটা তারা করছে ভুটানের ডোকালাম নিয়ে৷

ডোকলামের সামরিক অচলাবস্থা কাটাতে চীন যদি কূটনীতির দুয়ার না-খোলে, তাহলে শীতের আগে পর্যন্ত সেখান থেকে কোনও দেশের বাহিনীরই সরে আসার কোনও লক্ষণ দেখা যাবে না৷ একমাত্র প্রবল তুষারপাতই পিএলএ-র রাস্তা বানানোর পরিকল্পনায় তখন বাগড়া দিতে পারে৷ হামবুর্গের গ্রুপ টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে ৭ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদীর স্বল্প সময়ের জন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল৷ সেখানে ডোকালাম নিয়ে একটা সমঝোতার সম্ভাবনা ছিল৷

আগামী দিনে যা-ই ঘটুক, চলতি সংকটে ভারত সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেল৷ অন্তত এটা দেখতে পেল যে, কীভাবে চীনারা নিজেদের আক্রান্ত বলে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ভারতের মিডিয়ার সহানুভূতি পর্যন্ত পেয়ে গেল৷ যদিও এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই৷ আধিপত্য বিস্তারের প্রশ্নে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বরাবরই চীনের সামরিক রণনীতির অন্তর্গত৷ পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সে কথা ভুলে যাওয়ায় মাঝখান থেকে দিল্লিই তাতে ধোঁকা খেয়ে গেল৷

সেইসঙ্গে এই শিক্ষাও হল যে, মুখ বুজে থাকলে চোরের মায়েরই গলা বড় হয়৷ আক্রমণকারীরাই ‘আমরা আক্রান্ত’ বলে চেঁচায়৷ ডোকালাম সংকট দেখিয়ে দিল, বিড়ালটা প্রথম রাতেই মারতে হয়৷ না হলে বেজিংয়ের ধোঁকাবাজদের মোকাবিলা মুশকিলের ব্যাপার৷

লেখক নামকরা ভূ-রণনীতিবিদ