কলকাতাঃ  অবশেষে কাজ শুরু হল এসএসকেএমের জরুরি বিভাগে। প্রায় ৭২ ঘন্টা পর অবশেষে স্বাভাবিকের পথে সরকারি হাসপাতাল চত্বর। যদিও আন্দোলনকারী ডাক্তাররা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি’র পর কিছুতেই পিছু হটতে নারাজ। এনআরএসের ডাক্তারদের পালটা দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এনআরএসে আসতে হবে। সহানুভূতির সঙ্গে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের।

অন্যদিকে এসএসকেএমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে এনআরএসের আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, ওখানে কাজ চলছিলই। ইমারজেন্সিতে কিছু ডাক্তার কাজ করছিলই। তবে এসএসকেএম সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির পরেই কিছু সিনিয়র ডাক্তার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এখনও কাজ শুরু করেননি। তারা এই মুহূর্তে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে বলেই খবর।

অন্যদিকে, প্রায় কয়েকঘন্টা কেটে গেলেও এখনও এসএসকেএমেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল সুপার সহ সমস্ত স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। মূলত কীভাবে পরিষেবা আবার স্বাভাবিক করা যায় তা নিয়েই মূলত এই বৈঠক হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ইমারজেন্সিতে সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

নীলরতন সরকার হাসপাতালে ডাক্তারদের নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে গত দু’দিন ধরে কর্মবিরতিতে রাজ্যের জুনিয়র ডাক্তাররা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক্তারদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা না পাওয়া রোগী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মমতার ঘোষণা, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাওয়া হবে প্রাইভেট হাসপাতালে।

কর্মবিরতিতে থাকা ডাক্তরদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করুন। এবং উনি প্রতিশ্রুতি দিন এরকম ঘটনা আর ঘটবে না৷ সেই দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলেন বটে তবে এসএসকেএমে এসে ডাক্তারদের কড়া বার্তা শোনাতে ছাড়লেন না। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে ডাক্তাররা মার খেয়েছেন সেটা ঠিক নয়৷ কিন্তু রোগীদের পরিষেবা দিতে হবে। পরিষেবা না দিলে ডাক্তার হওয়া যায় না। কয়েকজন নাটক করছে। চার ঘন্টার মধ্যে কাজ শুরু না করলে হস্টেল খালি করে দিন। যারা কাজ করবে না তাদের সঙ্গে নেই সরকার। এখানেও বহিরাগতরা এসে গন্ডোগোল পাকানোর চেষ্টা করছে। যত নেতা আছেন ধর্ণায় আসুন। কাজে যোগ না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বলেও হুশিয়ারি দেন মমতা।

আর তাঁর এই হুঁশিয়ারি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এসএসকেএমের জরুরি বিভাগে কাজ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এসএসকেএমের অবস্থা। কিন্তু এখনও কড়া মনোভাব নিয়ে কর্মবিরতী চালিয়ে যাচ্ছেন এনআরএসের ডাক্তাররা।