স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আন্দোলনকারী ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী একটু বিনীতভাবে কথা বললে হয়তো পরিস্থিতি এত জটিল হত না। গণ অবস্থানের মঞ্চ থেকে এমনই মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। এন আর এসে রোগীর পরিবারের হাতে এক জুনিয়র ডাক্তারের নিগ্রহের প্রতিবাদে রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি শুক্র বার চার দিনে পড়ল।

এ দিনও শহরের এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছেন অসংখ্য সঙ্কটজনক রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকজন। কিন্তু আউটডোর থেকে জরুরি বিভাগ, সব বন্ধ থাকায় তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারিতে যে কোনও কাজ হয়নি সেটা পরিষ্কার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে এসে আন্দোলনরত চিকিৎসকের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত কাজে যোগ দিতে হবে। নচেৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য কার্যত ঘি ঢালে আন্দোলনের আগুনে। শহরের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল, আর জি কর, এন আর এস এবং কলকাতা মেডিক্যালে আন্দোলন আরও জোরদার করেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। দলে দলে ইস্তফাপত্র দিতে শুরু করেছেন তাঁরা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের তো একটাই চাহিদা-নিরাপত্তা। সেটা চেয়ে ওনারা তো কোনও ভুল করছেন না। আর রোগীর পরিবারগুলোও তো অসহায়। তাঁরাও তো কোনও অন্যায় করেননি। এই পরিস্থিতির জন্য একমাত্র দায়ী প্রশাসন। ” কংগ্রেসের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর আগেই উচিত ছিল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো ঠিক করা। তিনি সেটা না করে জুনিয়র ডাক্তাদের এখন কাঠগড়ায় তুলছেন। রাজ্যে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে এদিন সকাল 11টা থেকে গাঁধীমূর্তির পাদদেশে গণ-অবস্থানে বসেছে কংগ্রেস। বিকেল চারটে পর্যন্ত চলবে এই অবস্থান।

সোমেন মিত্র গত সোমবারই বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘সত্তর দশকের আগে থেকেই এই রাজ্য অনেক রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখেছে। কিন্তু কোনও দিন এমন নিরবচ্ছিন্ন ভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণে গোষ্ঠী সংঘর্ষ দেখেনি। এই অবিশ্বাস ও ঘৃণার রাজনীতি বাংলায় অভূতপূর্ব। পতাকার রং যা-ই হোক, সংঘর্ষে মৃত্যু হচ্ছে গরিব মানুষের।’’ এই হানাহানি বন্ধের দাবিতেই এদিন গাঁধীমূর্তির নীচে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অবস্থানে বসলেন সোমেনবাবুরা। আগামীকাল প্রদেশ কর্মসমিতির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে।