স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই কাউন্সিলিং শুরু করেছে৷ পাশাপাশি দ্বিতীয় মেধাতালিকায় পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করেনি এবং শূন্য পদ বাড়ার জায়গায় কিভাবে কমে গেল? এই প্রশ্ন নিয়ে গত অক্টোবর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আশরাফুল নিশা সহ বেশ কিছু পরীক্ষার্থী।

মামলার বয়ান অনুযায়ী আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে অভিযোগ করেন, যে স্কুল সার্ভিস কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ না করে তারা কাউন্সিলিং শুরু করেছে। পরীক্ষার্থীরা তাদের দেওয়া লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছে তাও সুনির্দিষ্ট করে পরীক্ষার্থীদের জানানো হয়নি। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে সুযোগ পান সেই কারণেই গত ১১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায় স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেয় যে আগামী ২রা জানুয়ারির মধ্যে এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতের কাছে হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে৷

কিন্তু সেই সময়ের আগেই গত ১৪ ই নভেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী ঋতু বেরাকে তথ্যের অধিকার আইনে বা RTIয়ে জানানো হয় যে লিখিত পরীক্ষা ৫৫ নম্বর এবং তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৯। স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই তথ্য পাওয়ার পর চমকে ওঠেন ঋতু বেরা৷ কারণ ১০০ নম্বরের পরীক্ষা যার মধ্যে লিখিত নম্বর হচ্ছে ৫৫ শিক্ষাগত যোগ্যতা ৩৫ এবং মৌখিক পরীক্ষা ১০ নম্বরে৷ তাহলে আরটিআইয়ের উত্তর কিভাবে লিখিত পরীক্ষায় ৫৯ বলা হল?

এর ঘটনার প্রেক্ষিতে, ঋতু বেরার পক্ষের আইনজীবী আশিস বাবু জানান মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২রা জানুয়ারিতে এই বিষয়ে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করাবেন। কিভাবে এসএসসির মত একটি নিরপেক্ষ সংস্থা তারা RTI এর পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের আশ্চর্যজনক উত্তর দেন, তা জানতে চাওয়া হবে৷ আইনজীবী জানান পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ একেবারে যথাযথ৷ কারণ পরীক্ষার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্ধকারে রেখেই যাবতীয় প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এসএসসি৷