স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সারা কলকাতা যখন রঙের ঘোরে বিভোর, তখন ওদের বসন্ত রঙহীন, বিবর্ণ। এমনকি ওরা জানিয়ে দিলেন, বৃহস্পতিবার নয়, দাবি পূরণের দিনটাই ওদের কাছে রঙের দিন। ওই দিনই নিজেদের রাঙিয়ে নেবেন তাঁরা। ওরা বলতে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে অনশনে বসা চাকুরীপ্রার্থীরা। বাংলার দোলের দিনে ওদের অনশন পড়ল ২২ দিনে।

রঙ লাগেনি বললে ভুল হবে, ওদের রঙ শুধুই লাল। তেমনটাই জানালেন ওরা। বললেন, ‘ রঙ লেগেছে, একেবারে রক্ত রঙ। ‘ টানা অনশন করতে গিয়ে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, হাসপাতালে তাঁদের হাতে সেলাইনের সূঁচ ফোটাবার সময় যে রঙটা তাঁরা দেখছেন, তাঁর রঙ লাল। তাই ওদের কাছে বসন্ত রঙ ‘লাল’।

অন্যান্য দিন পথ চলতি মানুষ কলকাতার বুকে হাঁটতে হাঁটতে পথের ধারে পরে থাকা মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। কিন্তু এদিন কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তাটা ছিল প্রায় শুনশান।

তানিয়া শেঠ নামে এক অনশনকারিনীর মা দোলের আগের দিন নদিয়া থেকে মেয়ের কাছে এসেছেন। তানিয়া বলেন, “দোলে প্রতি বছর আবীর খেলি, কিন্তু এবার অনশন করছি, শরীর অসুস্থ। মা থাকতে না পেরে চলে এসেছেন আমাকে দেখতে। মা আমার সঙ্গেই আছেন অনশন মঞ্চে।”

রবিবুর সেখ নামে আরেক অনশনকারী জানান, তাঁর বাবা-মা তাঁকে দোলের দিন ঘুরতে যেতে বলে ছিলেন। কিন্তু তিনি যাননি। জেলায় জেলায় প্রচুর শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। কিন্তু সেই শূন্য পদগুলি আপডেট না হওয়ায় তারা চাকরি পাচ্ছেন না। কাউন্সিলিং হয়ে নিয়োগ পত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকবেন। দাবি পূরণ হলে তবেই বাড়ি যাবেন। তখনই তাঁরা ্মাতবেন রঙের উৎসবে ,তার আগে নয়। দোল না খেললেও প্রচুর মানুষ ফেসবুক – হোয়াটস অ্যাপে দোলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা সফল হবেনই।

দোলের আগের দিন টানা অনশনে ৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দোলের দিন এমনিতেই গাড়িঘোড়ার সংখ্যা কম। কেউ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে সমস্যা হবে। তাই এদিন খুব সন্তর্পণেই কাটাতে হল তাঁদের।