ভারতীয় জওয়ানদের প্রতি সম্মান জানাতে শাহরুখ খানের প্রোডাকশন হাউসে ‘রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট’ নিয়ে আসছে নতুন একটি ছবি। ভারতীয় সেনার স্পেশাল অভিযান ‘অপারেশন খুকরি’র গল্প নিয়েই তৈরি হচ্ছে সেই সিনেমা। শাহরুখের সবথেকে বড় প্রজেক্ট।

কি এই ‘অপারেশন খুকরি’?
দু’মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় পণবন্দী থাকার পর বহু মানুষকে রক্ষা করে ভারতের গোরখা রাইফেল ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়ন। রাষ্ট্রসংঘের পিস কিপিং ফোর্সের অংশ হিসেবে ৫/৮ গোরখা রাইফেলের জওয়ানেরা দক্ষিণ আফ্রিকার সিয়েরা লিয়নে গিয়ে এই উদ্ধারকাজ চালায়। এই অভিযান সফল হয়েছিল। মেজর হরিন্দর সুদের কমান্ডে ওই অভিযানে অংশ নেয় ভারতীয় সেনা।

দিল্লি থেকে এয়ারলিফট করে নিয়ে যাওয়া হয় ২২৩ জন জওয়ানকে। ৭৫ দিন ধরে সিয়েরা লিয়নের অন্যতম বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘রেভিলিউশনারি ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর হাতে বন্দি ছিল বহু মানুষ। ওই অপারেশনে ব্যবহার করা হয় Mi-25/35 হেলিকপ্টার। এই অভিযানে ভারতীয় সেনার কোনও ক্ষতি হয়নি।

২০০০-এর এপ্রিলের মাঝামাঝি দুই কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একদল যায় সিয়েরা লিয়নের কালিয়াহুন এলাকায়। অপর দলকে দারুতে মোতায়েন করা হয়। দিন দশেকের মধ্যে ভারতীয় সেনার চাপে বেশ কিছু পণবন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই কেনিয়ার পিসকিপারদের অস্ত্র কেড়ে নেয় ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। কালিয়াহুনের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। ভারতীয় সেনাকেও ঘিরে ফেলে ওই গোষ্ঠীর লোকজন। প্রায় ৭৫ দিন এইভাবে চলে। এর মধ্যেই অতিরিক্ত বাহিনীর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

১৬ জুলাই সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় অভিযান। Mi-8s হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হয় গোরখা বাহিনীকে। ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একের পর এক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে শুরু করে ভারতীয় সেনা। একের পর এক জায়গা পেরিয়ে ওই বাহিনী পৌঁছয় দারুতে। সেখানেই শেষ হয় সফল এই অভিযান। এরপর দু’সপ্তাহ ধরে প্যারাট্রুপার নামিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সব জঙ্গি ক্যাম্প। এটাই ছিল ভারতীয় সেনার ইতিহাসে অন্যতম সফল এক অভিযান ‘অপারেশন খুকরি।’