মুম্বই: অভিনয়ের কেরিয়ারের বয়স হয়ে গেছে ২৫ বছর। কোনও গডফাদার ছাড়াই পাড়ি দিয়েছিলেন অভিনয়ে। কিন্তু আজ তিনি শীর্ষে। আক তিনি ‘কিং খান’। ‘জিকিউ’ ম্যগাজিনে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জীবনের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বললেন। কিভাবে সেই ব্যর্থতা সামলে উঠে দাঁড়াতে হয় সেই কথাও বললেন শাহরুখ খান। চূড়ায় পৌঁছতে গেলে পেরোতে হয় বহু বন্ধুর রাস্তা, এমনই মনে করেন এসআরকে।

নিজের জীবনের প্রথম ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছেন বাদশা। “আমার মনে আছে স্কুলে ১০০ মিটার দৌড়ে আমার সঙ্গে যারা দৌড়েছিল তারা আমার থেকে বয়সে একটু বড় ছিল। তার আগে পর্যন্ত আমি আমার বয়সিদের সঙ্গেই রেসে দৌড়তাম এবং আমিই সবসময় জিততাম। সেদিনের প্রতিযোগিতায় আমি ৬-৭ জন ছেলের মধ্যে পঞ্চম হই। দৌড় শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষের সবাই বিজেতাদের কাছে গিয়ে তাদেরকে পোডিয়ামে উঠিয়ে দেন। অনেক লোকজন ছিল কিন্তু কেউ আমার কাছে আসেনি। সেদিন সবথেকে একা লেগেছিল”, বলেছেন এসআরকে।

ব্যর্থতা ও সাফল্যের কিরকম আলাদা আলাদা প্রভাব পড়তে পারে সেই কথাও বলেছেন কিং খান। তিনি বলেছেন “ব্যর্থতাকে একাই সামনা করতে হয়। সাফল্যের সময় অনেক শুভাকাঙ্খী ও বন্ধুরা সঙ্গে থাকেন। কিন্তু ব্যর্থতা খুব একা। যখন আপনি একজন সফল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন, তাদের কথা শুনে মনে হয় তারা সচেতন এবং অস্পষ্ট। তারা কিছু গোপন করেন না আসলে, তারা সত্যিই জানেন না যে কিভাবে সাফল্য কথায় ব্যক্ত করবেন। ব্যর্থতাও ঠিক সেরকমই। পার্থক্য হল সাফল্য অনেক আনন্দ আড়ম্বরের সঙ্গে আসে আর ব্যর্থতা আবার কোণঠাসা করে দেয়। সেই ব্যর্থতার সঙ্গে লড়ার পর আবার জেগে উঠে নতুন করে শুরু করতে হয়। এটি একটি প্রক্রিয়া”।

কিং খান মনে করেন ব্যর্থতার কিছু উপকারিতাও আছে। তিনি বলেছেন, “আপনি যদি কোনও একটি বিষয় বারবার ব্যর্থ হতে থাকেন, তাহলে হয়তো সেই জিনিস আপনার জন্য নয়। এই ব্যর্থতার ফলেই আপনি শিখে যান যে এই ভুল আর করা যাবে না। ঔদ্ধত্ত বাদ দিয়ে এটি আপনাকে আরও বিনয়ী করে এবং নিজের লক্ষের প্রতি আরও স্থির করে। কিন্তু আমার মনে হয় নিজেরা নিজেদেরকে ভালো অনুভব করানোর জন্যই আমরা এসব কথা বলি কারণ আসল সত্যিটা হল ব্যর্থতা খুব খারাপ। কিন্তু ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী”।

তিনি মনে করেন আনন্দ করতে আর অল্পবয়স্ক থাকতে সবাই ভালোবাসে। কিন্তু এসব সারা জীবন থাকবে না। সাফল্য আর ব্যর্থতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। সব কিছু অস্থায়ী জেনেও আমরা পরের দিন ভালো কিছু দিয়ে দিন শুরু করব এই আশা করি।

আজ যিনি সাফল্যের চূড়ায়, তাঁর এই বার্তা জেনে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবে তা বলাই বাহুল্য।