কলম্বো: ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের দুনিয়া জুড়ে প্রবল আলোচিত একদা জঙ্গি নাশকতার কেন্দ্র দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা৷ পরপর ৬ বার কেঁপে গিয়েছে দেশটির একাধিক গির্জা, পাঁচতারা হোটেল৷ নিহতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে৷ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর আরও বহু জখম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷

যে উগ্র বিচ্ছিন্নতাবাদী এলটিটিই-সন্ত্রাসবাদে বারে বারে রক্তাক্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কা সেই দেশে ফের নাশকতায় মৃতদেহের স্তূপ তৈরি হয়েছে৷ কারা হামলা চালিয়েছে তা পরিষ্কার নয়৷ তবে এরই মাঝে অন্য এক লড়াই শুরু হল৷ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানবতার লড়াইয়ে রক্তদাতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে হাসপাতালগুলিতে৷

রাজধানী শহর কলম্বোর বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা দিতে শুরু করেছে রক্ত সংকট৷ কারণ বিস্ফোরণে মারাত্মক জখমদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা শুরু হয়েছে৷ চিকিৎসক-চিকিৎসা কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন৷ বোতল বোতল রক্ত লাগছে মুমূর্ষুদের জন্য৷ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই রক্তের চাহিদা এতই বেড়েছে যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের মজুদ রক্তের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে৷ এই অবস্থায় জনগণ এসে দাঁড়ালেন৷ বহু মানুষ ভিড় করেছেন বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকের সামনে৷ তাঁরা চাইছেন রক্ত দান করতে৷ সেই রক্ত কাজে লাগবে বিস্ফোরণে জখমদের চিকিৎসার জন্য৷

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে শুরু করেছে রক্তদাতাদের ছবি৷ ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে সেই সারি৷ শয়ে শয়ে মানুষ আসছেন রক্ত দিতে৷ সেই রক্ত নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে৷ এ এক অন্য লড়াই৷ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানবতার লড়াই৷ সেটাই করে দেখাচ্ছেন লঙ্কাবাসীরা৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলেই আশা সরকারের৷

ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংঘে ডেকেছেন জরুরি-কালীন বৈঠক৷ সংবাদ সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, নাশকতায় বেশকিছু বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে৷ কলম্বোয় থাকা ভারতীয়দের অবস্থা নিয়েও বাড়ছে চিন্তা৷