কলম্বোঃ  গত কয়েকদিন আগে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শ্রীলঙ্কা। কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষ। আর এই অবস্থায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিল শ্রীলঙ্কার সরকার।

ন্যাশনাল থাওহিত জামাত (এনটিজে) সহ আরও দু’টি মুসলিম চরমপন্থী মৌলবাদী সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল সে দেশের সরকার। প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা চলতি সপ্তাহে নজিরবিহীন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এনটিজে ছাড়া বাকি দু’টি সংগঠন হল জামাতে মিলাতে ইব্রাহিম (জেএমআই) এবং উইলায়াত অ্যাজ সেলানি (ওয়াজ)।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এহেন নির্দেশিকা কার্যত নজিরবিহীন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম। সংখ্যালঘুদের শতকরার হিসেবে হিন্দুদের পরই তাদের স্থান। খ্রিস্টানদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র সাত শতাংশ। নতুন করে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার আকাশে ড্রোন ওড়ানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কা আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পরেই বিভিন্ন জায়গায় গোষ্ঠী সংঘর্ষের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তাতে সোমবার উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে এক মুসলিমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই দেশজুড়ে রাতে কার্ফু জারি করা হয়। যদিও মঙ্গলবার তা শিথিল করা হলেও দেশের বেশ কিছু অংশে এখনও কার্ফু জারি রয়েছে। এই অবস্থায় কার্যত ময়দানে নামতে বাধ্য হন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। দেশের সংখ্যালঘু মানুষের উপর অত্যাচার বন্ধ করার জন্যে পুলিশ প্রশাসনকে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন লঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।