কলম্বো: শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বেশ কিছুদিন কেটে গিয়েছে। তবু এখনও আতঙ্কের প্রহর গুনছে শ্রীলঙ্কাবাসী। আবারও হতে পারে হামলা। এবার সতর্ক করলেন খোদ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, আইএস-এর আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার ইস্টারে বোমা হামলাকারীদের অধিকাংশের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তদন্তকারীরা।

প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এই হামলার পর নতুন সন্ত্রাসবিরোধী আইন চালু করার পরিকল্পনা চলছে শ্রীলঙ্কায়।

এদিকে পুলিশ বলছে, ২১ এপ্রিলের বোমা হামলাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সোমবার সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক অডিও বার্তায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমারত্নে বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রায় সব সন্দেহভাজন হামলাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী অভিযানে নিহত অথবা গ্রেফতার হয়েছেন।

এতে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্তত দু’জন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। যারা অভিযানে মারা গিয়েছেন।

পুলিশ প্রধান বলেন, তারা আরও হামলা চালানোর জন্য বিস্ফোরক মজুত করেছিল, সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪২ বিদেশি নাগরিকসহ ২৫০ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে ভারতে এসেছিল। কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরলে গিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান। বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়ক। যদিও ভারতে আসার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয় শ্রীলঙ্কা সেনার কাছে। তবে ট্রেনিং নিতে এসেছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

গত ২১ এপ্রিলের সেই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় যুক্ত ছিল অন্তত ন’জন আত্মঘাতী জঙ্গি। ভারতের তরফ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্বেও শ্রীলঙ্কা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তত পোক্ত করেনি। আর সেইজন্যই এই হামলা বলে আনুমান। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনাও দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই আঙুল তুলেছেন।