নয়াদিল্লি-কলম্বোঃ  ইস্টার সানডে৷ তাই নিয়মমতো গীর্জায় গিয়ে শান্তমনে প্রার্থনায় রত ছিলেন অনেকে৷ কিন্তু সেই শান্ত মনেই হঠাৎই থাবা বসল আতঙ্কের, রক্তাক্ত হয়ে উঠল ইস্টার সানডে৷ ২১ এপ্রিল, সকাল ৮.৪৫মিনিট নাগাদ ৩টি গীর্জা এবং ৩টি বিলাসবহুল হোটেলে পর পর বিস্ফোরণে এভাবেই শুরু হল শ্রীলঙ্কার রবিবাসরীয় দিনটি৷ ছটি বিস্ফোরণেই থেমে থাকেনি। এরপর আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।

রক্তাত্ব গোটা দেশ। ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ২০০ রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যদিও এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে সে আশঙ্কার কথা নাকি আগেই জানিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান৷ শুধু তাই নয়, এক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট জানাচ্ছে, জঙ্গিদের টার্গেটে ছিল শ্রীলঙ্কার ভারতীয় দূতাবাসও। যদিও রবিবার দিনভর কলম্বোজুড়ে যে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ হয় তাতে বেঁচে গিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন। সেখানে কোনও বিস্ফোরক মেলেনি বা কোনও ক্ষতিও হয়নি। কিন্তু এই বিস্ফোরণের পর ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। দূতাবাসের আসেপাশের গোটা এলাকা কর্ডন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতীয় কুটনৈতিকদেরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই ভয়াবহ নাশকতার পিছনে কারা রয়েছে তাও যেমন স্পষ্ট নয়, কারা টার্গেট ছিল সেটাও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না৷ এখনও অবধি কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি৷ তবে সন্দেহের তালিকায় রয়েছে শ্রীলঙ্কার কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠন এটিজে৷ বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তারা সেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা পরিস্কার নয়৷ অন্যদিকে, এই নাশকতার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ইন্ডিয়া হাই কমিশন একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে৷ এই নম্বরে ফোন করে শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় নাগরিকদের সাহায্যার্থে এই হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল, +94777903082, +94112422788, +94112422789