স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রেলের চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা মামলায় মুকুল রায়ের শ্যালক সৃজন রায়ের জামিন মঞ্জুর করলো হাইকোর্ট।

১৭৮ দিন ধরে সৃজন রায় জেলে ছিলেন। জেলে থাকা কালীন তাঁকে একবারের জন্যও তদন্তকারী আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলে বুধবার হাইকোর্টে অভিযোগ করেন সৃজনের আইনজীবীর সুদীপ্ত মৈত্র এবং শুভাশিস দাসগুপ্ত । এটা রাজনীতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা বলেও অভিযোগ করেন সৃজনের আইনজীবীরা।

যদিও সরকারি আইনজীবী শাশ্বতগোপাল চট্টোপাধ্যায় সৃজন রায়ের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন । বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি রবি কৃষাণ কাপুরের ডিভিশন বেঞ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জমিন মঞ্জুর করেন ।

পড়ুন: পুজো কমিটিগুলোকে সরকারি অনুদানের বিরোধিতা, মামলা হাইকোর্টে

পাশাপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনায় তিনি প্রবেশ করতে পরবেন না এবং কলকাতার বাইরে বেরোতে পরবেন না । তদন্তকারী আধিকারিকরা যখন ডাকবেন তখন যেতে হবে এবং স্থানীয় পুলিশ থানায় সপ্তাহে একবার হাজিরা দিতে হবে৷

প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং শ্যালক সৃজন রায়ের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়া ও নৈহাটি থানা মিলিয়ে মোট ১১ টি মামলার দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে । ২০১২ সালের জানুযারিতে জনৈক রবি কুমার যাদবের কাছ থেকে রেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রথমে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন মুকুলের শ্যালক সৃজন রায়। এই লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন অপর অভিযুক্ত আশিষ দত্ত।

পড়ুন: সারদা তদন্তে অর্ণব ঘোষকে তলব সিবিআইয়ের

অবশ্য জানুয়ারির আগেই সৃজনের বাড়িতে মামলাকারির কাছ থেকে আরও ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিল আশিষ। এর পরেও বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা সহ সব মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সেই সময়ে রেলমন্ত্রী ছিলেন মুকুল রায় । রবিবাবুকে আশ্বাস দেওয়া হয় মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য এই অর্থ প্রয়োজন। এরপর কাঁচড়াপাড়া রেল হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সেবছরের অগস্ট মাসে একটি ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে ফেয়ারলি প্লেসে রেলের সদর দপ্তরে গিয়ে রবিবাবুকে যোগাযোগ করতে বলে আশিষ দত্ত।

এই আশিষ দত্ত রেলের কর্মচারি হলেও ৫ বছর ধরে নিজের কাজে যোগ দেননি। কিন্তু রবিবাবুকে টাকার পরিবর্তে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও তিনি চাকরি পাননি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মুকুল রায় -সহ সৃজন রায় ও আশিষ দত্তের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়া থানায় এফআইআর দায়ের করেন রবিবাবু। সেই মত তদন্তে নেমে সৃজন রায়ের বাসভবন থেকে রেলের নিয়োগপত্রের ভুয়ো প্যাড ছাড়াও বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তে নামে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে সৃজন রায়কে ।