কলম্বো: যে নয়জন শ্রীলঙ্কা জুড়ে ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ চালিয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন ছিল মহিলা৷ এবার নতুন করে গোয়েন্দা রিপোর্ট এসেছে প্রকাশ্যে৷ জানা গিয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গিরা৷ এবার তাদের টার্গেট বৌদ্ধ মন্দিরগুলো৷ শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের কাছে এমনই তথ্য এসে পৌঁছেছে৷

ইতিমধ্যেই যেসব জায়গায় তল্লাশি চলেছে সেখানে বেশ কিছু সন্দেহভাজনের কাছে নারী পোশাক মিলেছে৷ এছাড়াও সাদা কাপড় মিলেছে৷ এই সব সূত্র দেখেই শ্রীলঙ্কার গোয়ান্দারা মনে করছেন এবার আত্মঘাতী জঙ্গি হিসেবে মহিলারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে৷ স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন এনটিজের মহিলা জঙ্গিরা এই তালিম নিচ্ছে বলে খবর৷ সম্প্রতি শ্রীলংকা বিস্ফোরণের পর কিছু জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ব্লাউজ ও স্কার্ট উদ্ধার করা হয়৷

একটি সিসিটিভি ফুটেজও উদ্ধার হয়েছে যেখানে গিরিউল্লা এলাকার একটি দোকান থেকে জনা কয়েক মুসলিম মহিলাকে ৯টি সেট সাদা কাপড় ও পোশাক কিনতে দেখা গিয়েছে৷ ২৯শে মার্চের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে মুসলিম মহিলারা ২৯ হাজার শ্রীলঙ্কান টাকার কেনাকাটা করেছে৷ তারপরেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরণস্থল থেকে মেলে সাদা কাপড়৷

সেই কাপড়ই উদ্ধার হয় তল্লাশি চালাতে গিয়েও৷ ফলে গোয়েন্দাদের ধারণা এই মহিলারা বিস্ফোরণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত৷ এই মহিলারই এবার নিশানা করেছে দেশের বৌদ্ধমন্দির গুলিকে৷ এদিকে, রবিবারই শ্রীলঙ্কায় মুসলিম মহিলাদের মুখ ঢাকার উপর জারি হয় নিষেধাজ্ঞা৷ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা৷ সোমবার থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয় দেশজুড়ে৷

নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে, দেশের সুরক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনও ভাবে বিঘ্নিত হোক সেটা কাম্য নয়৷ তাই এখন থেকে কোনওভাবে প্রকাশ্যে মুখ ঢাকা যাবে না৷ কারণ এতে কাউকে চিনতে অসুবিধা হয়৷ প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম৷ হিন্দুদের পর মুসলিমরা এই দ্বীপরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷

গতকালই শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বোমা হামলার পরই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, জাহরান হাশিম নামের একজন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এই ব্যক্তি৷ সেও নাশকতায় মৃত৷ বিবিসি রিপোর্ট থেকে এমন খবর জানা যাচ্ছে৷

ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে৷ নাশকতায় জড়িত সাতজনের ছবি প্রকাশ করে তারা। সেই ছবিতে জাহরান হাশিমকেও দেখা গিয়েছে। ওই সাতজনের মধ্যে ছজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। কিন্তু জাহরানের মুখ ঢাকা ছিল না৷