কলম্বো: একের পর এক বিস্ফোরণে রক্তাক্ত বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা৷ ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব হেমসিরি ফার্ণান্দো৷ আর এবার শ্রীলঙ্কার পুলিশপ্রধানকে পদত্যাগের জন্য অনুরোধ করেন প্রেসিডেন্ট মৈথ্রীপলা সিরিসেনা৷ কিন্তু তিনি এই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন৷

শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে৷ আর সেই চাপেই ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ পূজিত জয়সুন্দর এবং প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্ণান্দোর ওপর দায় চাপাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট৷ কেন যথোপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে তাদের পদত্যাগ করতে বলেন৷ চলতি সপ্তাহের পদত্যাগ করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব৷ আর এবার পদত্যাগ করার কথা পূজিতের৷ কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্টের আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর৷ তবে, শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুযায়ী, সে দেশের পার্লামেন্ট একমাত্র পুলিশ প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরাতে পারে৷ এই পর্বও খুব একটা সহজ নয়৷

উল্লেখ্য, ইস্টার রবিবারে তিনটি চার্চ এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়৷ যাতে প্রায় ২৫০-এরও বেশি জনের প্রাণ যায় এবং ৫০০-রও বেশি জন আহত হয়৷ এর পরেও আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয় শ্রীলঙ্কায়৷ মঙ্গলবার জানা যায়, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার বদলা নিতে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস জঙ্গিরা৷ প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করে শ্রীলঙ্কা সরকার৷ মঙ্গলবার সরকারের এক মন্ত্রী পার্লামেন্টে একটি রিপোর্ট পেশ করেন৷ সেই রিপোর্টে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে জোড়া হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ বলা হয়, ওই হামলার বদলা নিয়ে ইস্টার সানডের দিন গির্জা ও হোটেলগুলিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷

তবে দুদিন পরে ঘটনার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন৷ সংগঠনের এএমএকিউ নামের সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই জানানো হয়েছে৷ মঙ্গলবার এই নিউজ এজেন্সির তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ মাধ্যমে৷