কলম্বো: ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা৷ ইতিমধ্যেই ৩১০ জনে মৃত্যুর খবর এসেছে৷ এই ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০জনকে গ্রেফতার করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ৷ তবে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয়দের মৃত্যু সংখ্যাও বেড়েছে৷

মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে এই বিস্ফোরণ ১০ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে৷ এই তথ্য বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ট্যুইট করে জানান৷ ১০ জন ভারতীয়ের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনও৷ কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি ট্যুইট করা হয় মঙ্গলবার সকালে৷

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপলা সিরিসেনা গোটা দেশে ন্যাশনাল এমার্জেন্সি জারি করেছে৷ কিছু সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ বিস্ফোরণের আতংক কাটাতে টহলদারি চলছে সেনার৷ জারি রয়েছে কারফিউ৷

কোনও সংগঠন এখনও অবধি ঘটনার দায় স্বীকার করেনি৷ তবে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, এই হামলার পিছনে হাত রয়েছে কট্টর ইসলামিক সংগঠন এনটিজের৷ আন্তর্জাতিক কোনও সংগঠনের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি৷

ইতিমধ্যে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক৷ সোমবার এমনই দাবি করেন সেদেশের মন্ত্রী রাজিতা সেনারত্নে৷ জানান, রবিবার আটটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়৷ তাদের মধ্যে সাত জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক৷

আরও পড়ুন : ৪৫ দিনের মধ্যে পুলওয়ামা হামলার সব জঙ্গি নিকেশ হয়েছে : সূত্র

এদিকে ইস্টারের সকালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও বিশেষ সংগঠন। তবে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের দিকেই আঙুল তুলেছে সে দেশের সরকার।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য হামলার জন্য সতর্কতা দিয়ে আসছিল। নাম উঠে এসেছিল ‘ন্যাশনাল তওহিদ জামাত’ নামে একটি সংগঠনের, পাকিস্তানে যাদের অনেক সদস্য আছে বলে জানা যায়। এই বিস্ফোরণে শ্রীলঙ্কার সরকারও ওই সংগঠনকেই সন্দেহ করছে।

শ্রীলঙ্কায় যে ক্রমশ মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের প্রভার বাড়ছে, সেব্যাপারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছিল। লস্কর-ই-তইবা ও তাদের সমগোত্রীয় সংগঠনগুলির প্রতিপত্তি যে বাড়ছে, সেই রিপোর্ট আগেই দেওয়া হয়েছিল৷