কলম্বো: শ্রীলংকা কি ধর্মীয় বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকে ? এমনই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় কিছু উগ্র সংগঠন সরাসরি ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে জোরালো সওয়াল তুলতে শুরু করায় পরিস্থিতি ঘোরালো।

রয়টার্স, এপি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট- গত ২১ অগস্ট শ্রীলংকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে স্থানীয় খ্রিষ্টান সহ শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়। ইসলামিক স্টেটের লংকা শাখার পরিচালনায় সেই নাশকতার পর থেকেই অতি সক্রিয় হয়েছে বেশ কিছু বৌদ্ধ সংগঠন। বিবিসি জানাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার অন্যতম শহর হল ক্যান্ডি। সেখানে জনসমাবেশ করে স্থানীয় শক্তিশালী বৌদ্ধ সংগঠন বোদু বালা সেনা (বিবিএস)।

তার পরই প্রশ্ন ওঠে, এই দেশকে ধর্মীয় শাসনে বাঁধতে তৈরি হচ্ছে বৌদ্ধরা। সেই সমাবেশে বিবিএস বা বোদু বালা সেনা জানায়- তারা ‘সিনহলা সরকার’ চায়। যার লক্ষ্য হল, এই রাষ্ট্রে কোন তামিল, হিন্দু বা মুসলিম থাকবে না।

কলম্বোর একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট- ২০১২ সাল থেকে বোদু বালা সেনা, মহাসন বালাকায়া, রাভানা বালাকায়া এবং সিনহলি মুভমেন্টের মতো উগ্র সংগঠন তৈরি হয়েছে। তাদের লক্ষ্য দেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা। সেক্ষেত্রে বৌদ্ধ ধর্মই হবে প্রধান।

সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বো শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে আইএসের মতো ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন ও তাদের লংকা শাখা জড়িয়েছে। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। তার পর থেতে স্থানীয় বৌদ্ধ সংগঠনগুলির তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের নিয়েই দেশটিকে ধর্মীয় বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। ২১ অগস্ট যে হামলা হয়েছিল তাতে মূল লক্ষ্য ছিলেন শ্রীলংকার খৃস্টানরা। আর বৌদ্ধ বিবিএস সংগঠন সেই হামলাকে বৌদ্ধদের পক্ষে ঝুঁকি বলেই দাবি করছে।

দ্বীপরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে চিনা প্রভাব। কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারতকে বেগ দিতে ভারত মহাসাগরের বুকে শ্রীলংকার মতো ভূখণ্ড ও তার বন্দরকে ব্যবহার করতে চিন তৈরি। কিন্তু নয়াদিল্লির সঙ্গে কলম্বোর সম্পর্ক ভালো থাকায় সেই উদ্যোগ ঢিমে তালে চলছে। মনে করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে চিনের দিকেই ঝুঁকে পড়তে চলছে শ্রীলংকা।