কলম্বো: ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার বদলা নিতে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কট্টর ইসলামিকপন্থী জঙ্গিরা৷ প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করছে শ্রীলঙ্কা সরকার৷ মঙ্গলবার সরকারের এক মন্ত্রী পার্লামেন্টে একটি রিপোর্ট পেশ করেন৷ সেই রিপোর্টে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে জোড়া হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ওই হামলার বদলা নিয়ে ইস্টার সানডের দিন গির্জা ও হোটেলগুলিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুয়ান উইজেওয়ারডেনে পার্লামেন্টকে জানান, এখন অবধি তদন্তে যা জানা গিয়েছে তাতে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার বদলা নেওয়ার তত্ত্বই উঠে এসেছে৷ গত মাসে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকবাজের হামলায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়৷

এদিকে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা৷ ইতিমধ্যেই ৩১০ জনে মৃত্যুর খবর এসেছে৷ এই ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০জনকে গ্রেফতার করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ৷ মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয়দের মৃত্যু সংখ্যাও বেড়েছে৷

মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে এই বিস্ফোরণ ১০ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে৷ এই তথ্য বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ট্যুইট করে জানান৷ ১০ জন ভারতীয়ের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনও৷ কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি ট্যুইট করা হয় মঙ্গলবার সকালে৷

শ্রীলঙ্কায় যে এমন হামলা হতে পারে এমন খবর আগেই পেয়েছিল ভারত সরকার৷ ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য হামলার জন্য সতর্কতা দিয়ে আসছিল। নাম উঠে এসেছিল ‘ন্যাশনাল তওহিদ জামাত’ নামে একটি সংগঠনের, পাকিস্তানে যাদের অনেক সদস্য আছে বলে জানা যায়। এই বিস্ফোরণে শ্রীলঙ্কার সরকারও ওই সংগঠনকেই সন্দেহ করছে।

শ্রীলঙ্কায় যে ক্রমশ মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের প্রভার বাড়ছে, সেব্যাপারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছিল। লস্কর-ই-তইবা ও তাদের সমগোত্রীয় সংগঠনগুলির প্রতিপত্তি যে বাড়ছে, সেই রিপোর্ট আগেই দেওয়া হয়েছিল৷