কলম্বো: কি তাদের ভবিষ্যত জানা নেই৷ সামনে শুধু অন্ধকার৷ কারণ তাদের সঙ্গে তাদের পরিবার নেই৷ রিপোর্ট বলছে ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২০০-রও বেশি শিশু তাদের পরিবারকে হারিয়েছে৷ ফলে কার্যত অনাথ আশ্রমে দিন কাটছে তাদের৷

দ্বীপরাষ্ট্রের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে৷ জানা গিয়েছে, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র ও প্রধান রোজগার করা সদস্য ছিলেন৷ সেই সব পরিবার এখন প্রায় মৃত্যুর পথে৷ কারণ তাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, লোক বল নেই৷ অনেকেই এমনভাবে আহত হয়েছেন, যে তাঁদের পক্ষে আর কোনওদিনও কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়৷ কারণ তাঁরা পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন৷

এদিকে, বুধবারই শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে সতর্ক করেছেন যে আবারও হামলা হতে পারে দেশে৷ তিনি বলেন, আইএস-এর আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার ইস্টারে বোমা হামলাকারীদের অধিকাংশের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন : যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিরাটে ছুটি কাটিয়েছিল গান্ধী পরিবার : মোদী

প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানান, আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এই হামলার পর নতুন সন্ত্রাসবিরোধী আইন চালু করার পরিকল্পনা চলছে শ্রীলঙ্কায়।
এদিকে পুলিশ বলছে, ২১ এপ্রিলের বোমা হামলাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সোমবার সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক অডিও বার্তায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমারত্নে বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রায় সব সন্দেহভাজন হামলাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী অভিযানে নিহত অথবা গ্রেফতার হয়েছেন।

এতে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্তত দু’জন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। যারা অভিযানে মারা গিয়েছেন। পুলিশ প্রধান বলেন, তারা আরও হামলা চালানোর জন্য বিস্ফোরক মজুত করেছিল, সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জইশের নামে নয়া জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করছে পাকিস্তান: রিপোর্ট

২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪২ বিদেশি নাগরিকসহ ২৫০ জন নিহত হন।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে ভারতে এসেছিল। কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরলে গিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান। বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়ক। যদিও ভারতে আসার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয় শ্রীলঙ্কা সেনার কাছে। তবে ট্রেনিং নিতে এসেছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে।