বার্বেডোজ: ব্রিজটাউন টেস্টে জয় তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা৷ অথচ একটা সময় হারের ভ্রুকূটি চেয়ে বেসিছল দ্বীপরাষ্ট্রের ঘাড়ে৷ সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কেনিংটন ওভালে ক্যারিবিয়ানদের বিধ্বস্ত করে সিংহলীরা৷

পোর্ট অফ স্পেনে প্রথম টেস্ট হারার পর সেন্ট লুসিয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হলেও শ্রীলঙ্কা দলকে তাড়া করে বেড়ায় বল বিকৃতি বিতর্ক৷ যার জেরে এক ম্যাচে নির্বাসিত হতে হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রের নিয়মিত টেস্ট অধিনায়ক দীনেশ চাঁদিমলকে৷ স্টপ গ্যাপ ক্যাপ্টেন হিসাবে লাকমল কেনিংটন ওভালে সিরিজের শেষ টেস্টে নেতৃত্ব দিতে নামেন দলকে৷ দায়িত্ব নিয়েই দলকে স্মরণীয় জয়ের রাস্তা দেখালেন তিনি৷

ব্রিজটাউনে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ২০৪ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ হোল্ডার ৭৪ ও ডওরিচ ৭১ রান করেন৷ লাহিরু কুমারা ৪টি, রজিথা ৩টি ও লাকমল ২টি উইকেট নেন৷

পাল্টা ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ১৫৪ রানে৷ ডিকওয়েলা দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন৷ হোল্ডার ৪টি, গ্যাব্রিয়েল ৩টি ও রোচ ২টি উইকেট দখল করেন৷

প্রথম ইনিংসের নিরিখে ৫০ রানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করতে নেমে চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে৷ গোটা ক্যারিবিয়ান দল সাজঘরে ফিরে যায় মাত্র ৯৩ রানে৷ ন’নম্বরে ব্যাট করতে নেমে কোমার রোচ অপরাজিত ২৩ রানের যোগদান না রাখলে আরও আগেই গুটিয়ে যেতে পারত হোল্ডারদের দ্বিতীয় ইনিংস৷

লাকমন ও রজিথা দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নেন৷ দু’টি উইকেট দখল করেন কুমারা৷ প্রথম ইনিংসের মতোই একটি উইকেট পেরেরার৷

জয়ের জন্য ১৪৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে শেষ ইনিংসে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা তৃতীয় দিনের শেষে ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল৷ তার পর থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে দুই পেরারা (কুশল ও দিলরুয়ান) শ্রীলঙ্কাকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন৷ শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ১৪৪ রান তুলে তৃতীয় টেস্ট জিতে যায় এবং তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১’এর সমতায় নিস্পত্তি হয়৷

ম্যাচ হারলেও ব্যাটে-বলে নজর কাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডার ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন৷ সিরিজ সেরার পুরস্কার ওঠে ডওরিচের হাতে৷

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০৪ ও ৯৩
শ্রীলঙ্কা: ১৫৪ ও ১৪৪/৬
ম্যাচের ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজের ফল: ১-১ ড্র
ম্যাচের সেরা: জেসন হোল্ডার
সিরিজ সেরা: শেন ডওরিচ