ঢাকা:  শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর ইসলামিক স্টেট দায় নিয়েছে৷ শনিবার তাদের সংগঠনের পতাকা সহ একটি বার্তায় বাংলায় বলা হয়েছে-‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ’৷ এর পরেই ছড়িয়ে পড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আইএস হামলার আশঙ্কা৷ সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের জঙ্গি দমন শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়ে দিলেন- হামলার আশঙ্কা নেই৷ তবে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ প্রবণতা জেগে উঠেছে৷

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান জানিয়েছেন, কোনও ধরনের হুমকি বা হামলার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের সাম্প্রতিক গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে জঙ্গি হামলা হয়৷ বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে একটি প্রতিশোধপরায়ণ প্রবণতা জেগে উঠেছে। আমাদের বিভিন্ন ইন্টেলেজেন্সির মাধ্যমে কিছু তথ্য পেয়েছি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গিদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটা ভেঙে গেছে। শ্রীলংকায় ভয়াবহ হামলার পর জঙ্গিরা ইন্সপায়ার হয়েছে। তবে হামলার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো, মনোবল ও সরঞ্জাম তাদের নেই।

২০১৬ সালে ঢাকায় ভয়াবহ গুলশন হামলা সংঘটিত হয়৷ হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলায় আইএস জঙ্গিরা বাংলাদেশি সহ একাধিক বিদেশি নাগরিককে খুন করেছিল৷ পরে জঙ্গি দমন অভিযানে তাদের নিকেশ করা হয়৷ তার পরবর্তী সময়ে হামলা হয়েছে বাংলাদেশে৷ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ দুটি অন্যতম জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও নব্য জেএমবি এখন দূর্বল৷ তবে আরও কিছু সংগঠনও রয়েছে সক্রিয়৷ গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের একাংশের মধ্যে ছড়িয়েছে জঙ্গি প্রবণতা৷

এদিকে শ্রীলংকায় নাশকতার পরে ঢাকায় ফিরেছেন ১১ শ্রমিক৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ এই বিষয়ে মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে ফিরে আসা শ্রমিকরা সেখানকার ইব্রাহিম ইনসাফ আহমেদের কলসাস মেটাল নামে একটি পিতলের কারখানায় কাজ করতেন। জঙ্গি হামলার ঘটনায় ওই ফ্যাক্টরির মালিকের মৃত্যু হয়৷ ওই ১১ জন মূলত টুরিস্ট ভিসায় সেখানে গিয়ে ওয়ার্ক পার্মিট ছাড়া কাজ করছিলেন। অনেকের আবার ভিসার মেয়াদও ছিল না।