নয়াদিল্লি: অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন শান্তাকুমারন শ্রীসন্থ৷ অগস্ট, ২০২০ কেরলের এই ডানহাতি পেসারের উপর থেকে স্পট-ফিক্সিং কাণ্ডের নির্বাসন তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিসিসিআই-এর অমবাডসম্যান ডিকে জৈন৷ ফলে ফের বাইশ গজে ফিরতে পারবেন ৩৬ বছরের এই পেসার৷

আইপিএল স্পট-ফিক্সিং কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ছ’ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ফেলেছেন শ্রীসন্থ৷ অগস্ট, ২০১৩ আইপিএলে স্পট-ফিক্সিং কাণ্ডে শ্রীসন্থ-সহ রাজস্থান রয়্যালসের তিন ক্রিকেটার অঙ্কিত চহ্বাণ ও অজিত চাণ্ডীলাকে আজীবন নির্বাসিত করে বিসিসিআই৷ কিন্তু ১৫ অগস্ট, ২০১৯ বোর্ডের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অর্ডার বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ ৭ অগস্ট সেই অর্ডার পাশ হয়৷

এই অর্ডার প্রসঙ্গে বোর্ডের অমবাডসম্যান ডিকে জৈন বলেন, মিস্টার শ্রীসন্থ এখন তিরিশের শেষ দিকে৷ ক্রিকেটার হিসেবে ওর সেরা সময় চলে গিয়েছে৷ বিশেষ করে এক ফাস্ট বোলার হিসেবে ও ইতিমধ্যে সেরা সময় কাটিয়ে ফেলেছে৷’ অর্থাৎ সাত বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ফেরে বাইশ গজে ফিরতে পারবেন কেরলের এই স্পিডস্টার৷

নির্বাসিত হয়ে সমস্ত ধরনের ক্রিকেট থেকে বাইরে ছিলেন ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের এই পেসার৷ বোর্ডের অমবাডসম্যান ডিকে জৈনের দৃষ্টিভঙ্গিতে শ্রীসন্থে নির্বাসন হল,..‘শ্রীসন্থের জন্য সাত বছর যে কোনও ধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত থাকা এবং বিসিসিআই-এর কোনও কাজকর্মে যুক্ত না-থাকা যথেষ্ট৷ বোর্ডের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির নির্দেশে যেটা শুরু হয়েছিল ১৩ অগস্ট, ২০১৩৷ এবার তা বিচার পেল৷’

চলতি বছর এপ্রিলে বিচারপতি অশোক ভুষণ ও কেএম জোশেপ স্পট-ফিক্সিং কাণ্ডে শ্রীসন্থের নির্বাসন বিবেচনা করার জন্য বোর্ডের অমবাডসম্যান ডিকে জৈনকে তিন মাস সময় দেন৷ যদিও বোর্ডের তরফে চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়েছিল, শ্রীসন্থের আজীবন নির্বাসন আইন মেনেই হয়েছে৷ কারণ ম্যাচে ও প্রভাব খাটিয়েছিল৷ কিন্তু শ্রীসন্থের আইনজীবীর ব্যাখ্যা ছিল আইপিএল ম্যাচে ওর বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ ছিল না৷

রাজস্থান রয়্যালসের এই ডানহাতি পেসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৩ আইপিএলে মোহালিতে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাঁর দ্বিতীয় ওভারে ১৪ রান দিয়েছিলেন৷ তবে শ্রীসন্থ বরাবর এই অভিযোগ মিথ্যা বলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন৷
কেরলের এই স্পিডস্টার দেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ৫৩টি ওয়ান ডে এবং ১০টি টি-২০ খেলেছেন৷ তিন ফর্ম্যাটে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৬৯৷ শেষবার দেশের হয়ে খেলেছেন ২০১১ সালে৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব