সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বর্হিমহল তিনি রানী পদ্মাবতী, অন্দরমহলে তিনি পদ্মাবত। ঠিক এটাই পার্থক্য শ্রীভূমি এবং মহম্মদ আলি পার্কের পুজো মণ্ডপের মধ্যে।

দুই পুজো কমিটির বিষয় এই বছরের ব্লক ব্লাস্টার ‘পদ্মাবত’ ছবিকে ঘিরে। কিন্তু শিল্পীর সৃষ্টিতে এক মণ্ডপে ফুটে উঠেছে চিতোরগড় দুর্গের পূর্ণ রূপ। অপর মণ্ডপে মিলছে ‘পদ্মাবত’ ছবিতে ব্যবহৃত পদ্মাবতী মহলের অন্দর চিত্র।

উত্তর বনাম দক্ষিণ, থিমের বাজারে এটাই লড়াইটাই দেখতে পছন্দ করে দর্শকরা। কিন্তু এই লড়াই এখন সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। বরং এই বছরের নতুন লড়াই পূর্ব কলকাতা বনাম মধ্য কলকাতার দুই হেভি ওয়েট পুজো কমিটির। পূর্বের শ্রীভূমি এবং মধ্যের মহম্মদ আলি পার্ক দুজনেরই বিষয় একই।

তাই কে এটাই এই বছরের পুজোর নতুন লড়াই। দুজনেই দুই দিক থেকে সেরা। শ্রীভূমি শুক্রবার পুজোর উদ্বোধন করে দিয়েছে। টক্কর দিতে রবিবার সংবাদমাধ্যম ডেকে প্রি-পূজা মণ্ডপ দর্শন করিয়ে দিল মহম্মদ আলি পার্ক। দেখলে মনে হবে না যে দুই পুজো কমিটির বিষয় একই। কারন দুই মণ্ডপের ‘লুক অ্যান্ড ফিল’ সম্পূর্ণ আলাদা।

পূবের শ্রীভূমি বরাবরই পুজোকে ব্র্যান্ড বানাতে পছন্দ করে। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। অপরদিকে মহম্মদ আলি পার্ক এমন একটি পুজো যাদের পরিচিতি সাবেকিয়ানাতেই। এই প্রথম তারা কোনও বিষয়ভিত্তিক মণ্ডপ গড়ছে। দুই ধরনের পুজো। স্বাদ আলাদা, কিন্তু বিষয় এক। পার্থক্য ভিতর এবং অন্দরে।

মহম্মদ আলি পার্কের শিল্পী প্রশান্ত পাল মণ্ডপ বানিয়েছেন পুরো চিতোরগড়কে দুর্গকে নিয়ে। অপরদিকে শ্রীভূমির মণ্ডপ শিল্পীর নাম অজানা। স্থানীয় কোনও ডেকরেটর করেছেন। তিনি দেখেছেন পদ্মাবত ছবির ‘ঘুমর’ গানের দৃশ্যটি। অদ্ভুত আলো আঁধারির খেলা ছিল ফিল্মে। থিমের নাম ‘পদ্মাবত’, শিল্পী সেটাই হুবহু দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন। যা চিতোরগড়ের অন্দরমহলের চিত্র।

চোখের দেখায় আলাদা, তবু একই। তাই লড়াইও রয়েছে। অনেকটা কয়েনের এপিঠ আর ওপিঠ। শ্রীভুমির পুজোর উদ্যোক্তা বিধায়ক সুজিত বসু বলেন, “আমাদের বিষয় পদ্মাবত। সেখানে যেমনভাবে সেট বানানো হয়েছে সেটাই আমরা তুলে ধরেছি। আমাদের পুজো যেমন মানুষের ভিড় হয় তেমনই ভিড় হবে।” অপরদিকে মহম্মদ আলি পার্ক পুজোর কর্তা অশোক ওঝা বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে লড়াই নেই। আমাদের লড়াই আমাদের নিজেদের সঙ্গেই। আমরা আগে যা করেছি সেটাকেই ছাপিয়ে যেতে চাই।”