চণ্ডীগড়: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাক ‘আকাশযুদ্ধ’-এর পর থেকেই নিখোঁজ উইং কমান্ডারকে চিন্তায় ছিল ভারত। ৫৫ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে শুক্রবারই দেশের মাটিতে পা রেখেছেন মিগ বিমানের পাইলট অভিনন্দন। অন্যদিকে, আর এক বায়ুসেনা অফিসারের পরিবারে শোকের ছায়া। ওইদিনেই সীমান্তের কাছে ভেঙে পড়া মিগ বিমানে শহিদ হন স্কোয়াড্রন লিডার সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠ।

শুক্রবারই ছিল শেষকৃত্য। বায়ুসেনা অফিসারের পরিবার, আত্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে চন্ডিগড়ে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী আরতি সিংহও। তিনি নিজেও একজন স্কোয়াড্রন লিডার। বায়ুসেনা অফিসারের পোশাক পরেই স্বামীকে শেষ সম্মান জানালেন আরতি সিংহ। হাতে জাপটে ধরা তিরঙ্গা। শুকনো চোখে আবেগ ধরে রেখেছিলেন কী কঠোরভাবে।

পুলওয়ামার জঙ্গি হানার পর দু’দেশের মধ্যে ক্রমে বেড়ে ওঠা টেনশনের আবহেই মৃত্যু হয় সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠের। ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে তাঁকে গান স্যালুট দেওয়ার পর তাঁর মুখাগ্নি করেন তাঁর বাবা।

ওই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় প্রাণ হারান ভারতীয় বায়ু সেনার ছয় অফিসারের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষও। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই হেলিকপ্টারটি ভেঙে গিয়ে দু’ভাগ হয়ে যায়। যার ফলে আগুন লেগে যায় প্রায় সঙ্গে সঙ্গে।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ওই অফিসারের মৃতদেহ চণ্ডীগড়ের বায়ুসেনার স্টেশনে আনা হয় বায়ুসেনার একটি বিমানেই। তারপর ভারতীয় বায়ুসেনার গাড়িতে করে দেহটি নিয়ে যাওয়া হয় সেক্টর ৪৪-এর শ্মশানে।

৩১ বছর বয়সী স্কোয়াড্রন লিডার সিদ্ধার্থ বশিষ্ঠ তাঁর পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম, যিনি ভারতীয় সেনার অংশ ছিলেন। ২০১০ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন তিনি। গত বছর কেরলের বন্যার সময় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁকে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয় গত মাসেই।